চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নদভীকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্মেলন কক্ষে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে ১২ মার্চ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ কারাবন্দি নদভীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে রোববার শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ‘আবু রেজা নদভী আইআইইউসির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এবং আরো লোকজন মিলে ওই ট্রাস্ট থেকে সম্মানির নামে প্রায় দশ কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ আমরা অনুসন্ধান করছি। আদালতের অনুমতি নিয়ে গতকাল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আইআইইউসি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান নদভী ও অন্যদের বিরুদ্ধে সম্মানির নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। তা পর্যালোচনা করে দুর্নীতি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। আইআইইউসি টাওয়ার থেকে সম্মানির নামে নেজামউদ্দিন নদভী বিধিবহির্ভূতভাবে একাই ১০ লাখ নয় হাজার টাকা নিয়েছেন।

এছাড়া তার স্ত্রী রিজিয়া সুলতানা চৌধুরী তিন লাখ ৩৭ হাজার, প্রফেসর ড. কাজী দ্বীন মুহাম্মদ ছয় লাখ ৩০ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমদ চৌধুরী দুই লাখ টাকা, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ৪৫ হাজার, এসিএফডি পরিচালক আফজাল আহমদ ৪৫ হাজার, ড. মুহাম্মদ মাহী উদ্দীন ৪৫ হাজার, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শফীউর রহমান ৪৫ হাজার, সরওয়ার আলম ১০ হাজার, জিয়াউর রহমান ১০ হাজার, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ১০ হাজার, মিডিয়া উপদেষ্টা খালেদ মাহমুদ এক লাখ, প্রসেফর মোহাম্মদ সালেহ জহুর এক লাখ, প্রফেসর ফসিউল আলম ৫০ হাজার এবং প্রফেসর আবদুর রহিম ২৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী হিসেবে নিয়েছেন। সম্মানির নামে টাওয়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৬ জন তিন বছরে ১০ কোটি এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এছাড়া নদভী গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ঋণ, ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য ঋণ, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থ খরচ করেছেন ইচ্ছেমতো।