জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি পাঠাগারের (জাবিইপা) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে ভিসি প্রফেসর কামরুল আহসান এ বই মেলার উদ্বোধন করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামি পাঠাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘জাবিইপা বইমেলা ২০২৫’ শিরোনামে আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ মেলা। বইমেলায় কোরআন, হাদিস, সিরাত, ইসলামি সাহিত্য, ইতিহাস, গবেষণা, আত্মউন্নয়ন, শিশুসাহিত্যসহ সমৃদ্ধ শতাধিক বিষয়ের বই প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য রাখা হবে।

আরো জানা যায়, এবারে বইমেলায় মোট ১৯টি পাবলিকেশনের স্টল বসেছে। এছাড়া থাকবে লেখক-পাঠক আড্ডা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বই প্রদর্শনী, দাওয়াহ ক্যাম্পেইন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

জাবি ইসলামি পাঠাগারের পরিচালক ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা মত ও সংস্কৃতির চর্চা থাকলেও ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির সুযোগ খুবই সীমিত। জাবিইপা সেই শূন্যতা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের বইমেলা সে প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে আমরা মনে করি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে যে বড় পরিবর্তন এসেছে তার ছোঁয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও লেগেছে। তার প্রমাণ এ ইসলামি বইমেলা। আমি ১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হই। তারপর থেকে এ ধরনের আয়োজন কখনো দেখিনি। বিগত সময়ে কাজ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ লাগানো হতো।’

প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমরা আমাদের মানবিক গুণাবলিগুলোকে যদি অবলম্বন করি তাহলে আমাদের নৈতিক চরিত্রকে আরো বেশি ইসলামিক মতাদর্শ অনুযায়ী গড়ে তুলতে পারব। আমরা যদি এ মুল্যবোধটিকে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে লালন করতে পারি তাহলে আজকের এ ইসলামিক বইমেলার আয়োজন সার্থক হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘এ পথ দিয়ে হেঁটে গেলে হয়তো কারো চোখে একটি বই পড়ে যেতে পারে, আর সেই বইটি তার জীবন বদলে দিতে পারে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। জ্ঞানের জগৎ অনেক বিস্তৃত। আর সেই জগতে প্রবেশের সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে বই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানচর্চার প্রতি আরো আগ্রহী করে তোলে। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠ্যসূচির বাইরের বইও পড়ুক। যাতে তারা চিন্তাশীল, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’