রংপুর বিভাগের দু’কোটি মানুষের লাইফলাইন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুর ডিক্লারেশনের ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রংপুর বিভাগ বৈষম্য নিরসন আন্দোলন।
রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর বিভাগ বৈষম্য নিরসন আন্দোলনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন এ প্রস্তুতির কথা জানান।
ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিগত সময়ে তিস্তার পানি চুক্তি আদায়ে পোর্ট, ট্রান্সপোর্ট, ট্রান্সজিট, ট্রান্সশিপমেন্টের মতো সব ইস্যুতে ফ্যাসিস্ট সরকার ভারতের সাথে বার্গেনিংয়ের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তিস্তার পানি চুক্তি আদায়ে একমাত্র মাতারবাড়ি ডিপসি পোর্টের এক্সেস দেয়ার বিষয়টি সর্বশেষ বার্গেনিং কার্ড আছে। সেই কার্ড সঠিকভাবে প্রয়োগ করা না গেলে পানি চুক্তি বাস্তবয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
সার্কিট হাউজে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতসহ রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।
‘প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে তিস্তার ইস্যুতে আমরা আশাবাদী জানিয়ে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তার এই সফরের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন যে জয়গায় আটকে গিয়েছিল। সেটা আবার শুরু হোক সেটা আমরা চাই। আমরা চাই চীনের সহায়তায় তিস্তা প্রকল্পটা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। তিস্তা প্রকল্পে এই অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, মৎসজীবী, পেশাজীবী, আন ইমপ্লয়মেন্ট, দারিদ্রতা সব কিছুকে আমলে নিয়ে আমাদের মতো করে এই পরিকল্পনা হওয়া উচিৎ। সেক্ষেত্রে চীনের স্বল্পমেয়াদী ঋণ, অতিরিক্ত সুদ ও মেয়াদ সব বিষয় আমাদের আমলে নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটি করার জন্য যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বাস্তবতা আছে কিনা সরকারের সেই জায়গায় আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণে আমাদের বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ সে বিষয়ে জাপান বা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে প্যারালালি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। এই সংস্থাগুলোর সাথে দ্রুত কথা বলা উচিৎ। কারণ, আমরা দীর্ঘদিন শুনে এসেছি। আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ। আমরা বৈষম্যের শিকার। দারিদ্রের শিকার। কর্মসংস্থানহীনতার শিকার। বাজেট বৈষম্যের শিকার। আমরা চাই দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্যারালালি এ আলোচনাগুলোও চলুক।’
ড. মামুন বলেন, ‘আমাদের আরো বিকল্প প্রস্তাবনা হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে যমুনা ও পদ্মাসেতুর মতো করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সারচার্জ ধার্য করার বিষয় সরকারের পরিকল্পনায় থাকা উচিৎ। কারণ এই অঞ্চলের আটটি জেলার দুই কোটি মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্ন। এসব জিনিস তুলে ধরার জন্য আমরা মতবিনিময় করছি। আমরা যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই। সেটা চীনের মাধ্যমে হোক, অথবা নিজস্ব অর্থায়নে হোক অথবা জাপান বা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাধ্যমে হোক। আমরা চাই আগামী তিন বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজের একটা বাস্তবতা দেখতে চাই।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন মাস্ট। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নদীর পানি বন্টন নিয়ে বার্গেনিং করার যে সুযোগটা হারিয়েছি। সেটা এখন তলানিতে ঠেকেছে। সে কারণে মাতরাবাড়ি পোর্টের অ্যাক্সসেস দেয়ার ব্যাপারে তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে বার্গেনিং করতে হবে। এটাই তিস্তার পানি চুক্তির ব্যাপারে ভারতের সাথে একমাত্র বার্গেনিং ইস্যু আছে। এটা বর্তমান সরকারকে কাজে লাগাতে হবে।
ড. মামুন বলেন, ‘চীনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাইডলাইন আলোচনা অত্যন্ত পজেটিভ। এটা প্রধান উপদেষ্টা অন্য মাত্রার একটি বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে উনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। মোদির সামনে বসে চোখে চোখ রেখে সমস্ত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এ কথা বলা একটি অন্য মাত্রার। আমরা যে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের স্বপ্ন দেখি সমতা ভিত্তিক, সম্মান ভিত্তিক, দুই দেশের সমান অধিকার ভিত্তিক সেটা ড. ইউনুস দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি মনে করি ভারতের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে সকল উত্তেজনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটা কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে। ওয়ার্কিং লেভেলে ভালো কাজে দেবে বলে আমি মনে করি। আশাকরি, এই সাইডলাইন বৈঠক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে সমতা ভিত্তিতে। জনগণের আকাঙ্খার ভিত্তিতে।