মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামে স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে চাচা শ্বশুর ইলিয়াছ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে সবুজ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় সবুজসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের ভাই মাবুদ হোসেন গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন ঘাতক জামাই সবুজ হোসেন, তার বাবা ষোলটাকা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ময়নাল হোসেন ও মা সুখিয়ারা খাতুন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ভাই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি ঘাতক সবুজকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বানী ইসরাইল আরো জানান, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের টিম অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া নিহতের লাশ মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজ হোসেন প্রথমে জোড়পুকুরিয়া গ্রামে এক স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেম করে বিয়ে করেন। ওই পরিবারটি গরিব হওয়ায় সবুজের বাবা সাবেক মেম্বর ময়নাল হোসেন তাকে মেনে নেয়নি। একটি সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ময়নাল হোসেন ও তার স্ত্রী। পরে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন। পরে সবুজ গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের আবুল বাশারের মেয়ে সালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সালমা খাতুনকে নির্যাতন ও অত্যাচার করে আসছিলেন সবুজ। এ কাজে ছেলেকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন তার বাবা ময়নাল হোসেন ও মা সুখিয়ারা খাতুন।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে সবুজ তার শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। স্ত্রী দরজা না খোলায় এক পর্যায়ে সবুজ গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় চাচা শ্বশুর ইলিয়াছ হোসেন তাকে বাধা দিতে এলে সবুজ তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। ইলিয়াছের চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ছুরিসহ ঘাতক সবুজকে আটক করে এবং গুরুতর আহত ইলিয়াছ হোসেনকে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

পরে স্থানীয়রা সবুজকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এ সময় খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম এবং মেহেরপুরে কর্মরত সেনবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ঘাতক সবুজকে উদ্ধার করে থানায় নেয়।