ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক আ. ছালাম খান বলেছেন, ‘এক সময় আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা হতো মসজিদ থেকে। ইমাম মানে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আমাদের রাষ্ট্র প্রধানের পরিচয় ছিল খলিফা। হযরত ওমরের যুগে সারা পৃথিবীর অর্ধেক আমরা শাসন করেছি।’
তিনি বলেছেন, ‘খেলাফত ও আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে শান্তি আসা সম্ভব নয়। সমাজের সব জ্ঞান ও দক্ষতায় আমাদের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আ. ছালাম খান বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য নানা উপায়ে ইমামদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি আশাপ্রকাশ করেন, হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শীর্ষক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্প ইমামদের নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর হাওরে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ, পাখি ও বৃক্ষরাজি। প্রকৃতির এসব পরিবেশের সুরক্ষায় ইমামরা যেন সম্পৃক্ত থাকে এর জন্য প্রকল্পটি হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলার ৫৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ বিষয়ে ইমামদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তারা প্রতি জুমার খুতবায় ধর্মীয় বিষয়ের সাথে যুগোপযোগী আধুনিক এসব বিষয়ের একেক দিক নিয়ে কুরআন-হাদিসের আলোকে কথা বলবেন। এর জন্য ইমামদের সম্মানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মো: মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলার উপপরিচালক মো: মহসিন খান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ, পাগলা মসজিদের ইমাম আশরাফ আলী, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন প্রমুখ।