মুন্সীগঞ্জে ডাকাত আখ্যা দিয়ে সানা মাঝি (৪২) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১ মে) রাত ৯টার দিকে জেলার মাকোহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সানা মাঝি সদর উপজেলার মাকহাটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মাঝির ছেলে।

জানা গেছে, ওই এলাকার মাঝির বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে মর্মে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় যুবক সানাকে গণপিটুনি দিয়ে মধ্য মাকোহাটি তালগাছতলা রাস্তার উপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তার শরীরের সাথেই একনালা একটি শর্টগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ বেঁধে রাখে হত্যাকারীরা। সানাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওই এলাকা থেকে শর্টগানসহ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সানা মাঝির পরিবারের সাথে তার চাচাতো ভাই বাবু মাঝিদের বিরোধ শুরু হয়। ওই সময় বাবু মাঝির ভাই শিপন মাঝির গুলিতে নিহত হন সানার বাবা মোহাম্মদ মাঝি। এর পরের বছর শিপনকে হত্যা মামলায় সানা ও তার চার ভাই দীর্ঘদিন জেল খাটেন। ২০১৬ সালে তারা কারামুক্ত হয়ে গ্রামে ফেরেন। পরে দুই পক্ষ মীমাংসা করলেও বাবু পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ রয়ে যায়।

নিহত সানার ছোট ভাই আসাদ মাঝি বলেন, ‘স্বাধীন নামের এক ব্যক্তি কাজের কথা বলে বৃহস্পতিবার সানাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতেই জানতে পারি, সানাকে বাবু মাঝির বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। বাবু মাঝি, আলামিন, কাউসার, হিরণ, মুন্নাসহ অনেকেই নির্যাতন করেছেন। আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি, বাবুদের বাড়ির পাশে মাকাহাটি রাস্তার ওপরে ভাই সানা মাঝিকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে।’

সানার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার আট বছর ও চার বছর বয়সী দুইটা মেয়ে এবং আট মাসের একটি ছেলে আছে। আমার স্বামীর প্রতি ওদের এত আক্রোশ জানলে আমি আমার স্বামীকে ঘর থেকে বের হতে দিতাম না। ওরা আমার স্বামীকে পাষাণের মতো কুপিয়ে ও পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

নিহতের ভাই হবু মাঝি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ হতে জানা যায়, ‘মূলত দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পূর্ব বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে নিহতের পরিচিত স্বাধীন নামের ছেলে তাকে ডেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে রাত ৯টা হতে ১০টার মধ্যে তাকে হত্যা করে এলাকার মাইকে ডাকাত ডাকাত বলে ঘোষণা দিয়ে লাশ রাস্তার উপর ফেলে যায়। সানাকে যারা হত্যা করেছে তারাই তার লাশের সাথে অস্ত্র ও কর্তুজ রেখে গেছে।’

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। তবে আমরা আমাদের পুলিশিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আসামি গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিহতের ভাই আবু মাঝি আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’