স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভোলা। ভোলা-মেহেন্দীগঞ্জ-রহমতপুর-হিজলার সাথে রাজধানীতে সড়ক পথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোলার সাথে মহাসড়ক যোগাযোগ স্থাপনের খবরে আনন্দে ভাসছে জেলার মানুষ।
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সড়ক যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের আশা, মহাসড়কের সাথে ভোলা যুক্ত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ভোলাবাসীর জন্য সুখবর। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হচ্ছে, মানুষ অতি দ্রুত রাজধানীতে যেতে পারবে।’
শিক্ষার্থী উর্মী বলেন, ‘সন্ধ্যা পার হলেই আমাদের জরুরি প্রয়োজনে বাইরের জেলায় যাওয়া যায় না। এই সড়ক পথ চালু হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’
এদিকে ভোলার অর্থনীতির বড় একটি অংশ কৃষি, মৎস্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যনির্ভর।
বর্তমানে নদীপথনির্ভর যোগাযোগের কারণে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। মহাসড়ক যোগাযোগ চালুর মাধ্যমে কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন খরচ ও সময় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিজান, বেল্লালসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কাঁচামাল পরিবহনে দীর্ঘদিনের যে ভোগান্তি ছিল তার অবসান হবে। সড়ক পথে দ্রুত মালামাল পরিবহন হবে।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়ক ভোলার মানুষের জন্য শুধু যোগাযোগের নতুন দ্বারই খুলবে না, তৈরি হবে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ। এতে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বাড়বে উদ্যোক্তা।
শুধু তাই নয়, শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও আসতে পারে গতি।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, ‘মহাসড়ক কানেক্টিং হলে ভোলা সমৃদ্ধশালী জেলায় রূপান্তরিত হবে, পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। তাই এটি ভোলার মানুষের জন্য বড় একটি সুখবর।’
এদিকে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ভোলা সড়কপথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশায় এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন জেলার মানুষ।
তাদের দাবি, পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটানো হোক।