ঠাকুরগাঁওয়ে দুই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান দেলাওয়ার হোসেন।

রোববার (৩০ মার্চ) দুপুরে ছুটে যান মাসুমা আক্তার হীরার বাড়িতে এবং শনিবার রাতে জুবায়ের বাড়িতে। উভয়ের হাতে তুলে দেন ঈদ উপহার তুলে দিয়ে এ সুসংবাদ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীরা হলেন- ঠাকুরগাঁও শহরতলী বরুনাগাঁওয়ের বাসিন্দা, বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মরহুম ক্বারী আব্দুস সাত্তারের মেয়ে মাসুমা আক্তার হীরা এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের ঢাঙ্গীপুকুর গ্রামের আহসান হাবীব বকুলের ছেলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে দরিদ্র পরিবারের অদম্য দুই শিক্ষার্থী মেডিক্যালে পড়ার চান্স পেয়েছেন। তাদের সামনে বিশাল সুযোগ এসেছে ডাক্তার হয়ে মানব সেবা করার। ধার-দেনা করে দু’জনই ভর্তি হয়েছেন মেডিক্যাল কলেজে। কিন্ত বাকি পথ কিভাবে পারি দিবেন সে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পরেছে শিক্ষার্থীদেরপরিবারে। এমন সময় আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে হীরা ও জুবায়েরের পাশে দাঁড়ালেন দেলাওয়ার হোসেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের দুই শিক্ষার্থী যেন ভাঙ্গাঘরে চাঁদের আলো হয়ে জন্মেছেন। এবছর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ হয় তাদের। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিক্যাল কলেজে এবং মাসুমা আক্তার হীরা চান্স পেয়েছেন যশোর মেডিক্যাল কলেজে। তবে মাইগ্রেশন করে তিনি ভর্তি হয়েছেন দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে। উভয়েই ধার-দেনা করে ভর্তি হলেও গভীর চিন্তা ও হতাশায় দিন কাটছিল তাদের এবং তাদের পরিবারের। কিভাবে জোগার হবে তাদের লেখাপড়ার খরচ?

এমন সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন।

উভয়ের হাতে তুলে দেন ঈদ উপহার। তাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাত করে হীরা ও জুবায়ের এর লেখাপড়ার খরচের ব্যবস্থার দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন দেলাওয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম শুনেছি যে মাসুমা ও জুবায়ের নামে দু’জন শিক্ষার্থী মেডিক্যালে চান্স পেয়েছে। কিন্তু মাসুমার বাবা বেঁচে নেই, তার মায়ের পক্ষে মাসুমাকে মেডিক্যালে পড়ানোর সামর্থ নেই। অপরদিকে জুবায়েরের পিতাও কৃষিকাজ করে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। এমতাবস্থায় অর্থাভাবে তাদের পড়ালেখা অনিশ্চিত। তখনই আমি তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এসময় দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘টাকার অভাবে যেন তাদের লেখাপড়া বন্ধ না হয় সে ব্যবস্থা আমি করে দেব ইনশাআল্লাহ্।’

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।