আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবেল মণ্ডলের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার ঝুট ব্যবসা ও মাছের খামারের দখলকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে তার (রুবেল মণ্ডল) পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, রুবেল মণ্ডলের বড় ভাই রুহুল আমিন মণ্ডল পরপর দু’বার আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন এবং এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। তিনি এলাকাবাসীর সহায়তায় একাধিক শিল্পকারখানার ঝুট ব্যবসা, মাছ ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন।
পরিবারের দাবি, রুহুল আমিনের এই ব্যবসা দখল করার উদ্দেশ্যে গত ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করে তাকে এলাকাছাড়া করা হয়। ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে রুবেল মণ্ডল ব্যবসার দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে তিনি প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর তার পথের কাঁটা দূর করতে রুবেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে নিহতের পরিবার জানায়, গত বুধবার (৭ মে) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি রুবেল মণ্ডলকে মাছের ঘেরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শান্ত, গরুর ডাক্তার জাকির, আমজাদ মণ্ডল, জাইদুর মণ্ডল, হামেদ মাদবর, কুদ্দুস মণ্ডল, জুয়েল মাদবর, মুনসুর মণ্ডল, মিজান মণ্ডল ওরফে হায়েল মণ্ডল, সেলিম মণ্ডল, আবুল কাশেম দেওয়ান ও মিলন মণ্ডলসহ আরো অজ্ঞাত ছয় থেকে সাতজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
নিহত রুবেলের ভাই আলমগীর মণ্ডল জানান, হুমায়ুন চেয়ারম্যানের লোকজন ১৫ থেকে ১৬ দিন আগে থেকেই রুবেলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দু’দিন আগেও তারা জোরপূর্বক রুহুল মণ্ডলের মাছের খামার থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্তসহ বাকিরা এখনো পলাতক থাকায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে রুবেলের লাশ বাড়িতে আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনেরা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, রুবেল হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’