দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাবা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত দুই শিশু হলো—মুহাদ্দিস (৬) ও তুলনা আক্তার (৪)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ও বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ থানা এলাকার দেখার হাওর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগে তাদের বাবা কামরুল হাসানকে স্থানীয়দের মাধ্যমে আটকের খবর পেয়ে পুলিশ তার গ্রামের বাড়ি থেকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই সন্তানকে দেখার হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল হাসান গ্রামে গ্রামে ফেরি করে মসলা বিক্রি করেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে কয়েক দিন ধরে তার সাথে স্ত্রী ও মায়ের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে শিশু দুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন পর কামরুল একা বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তার আচরণে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ দাস তার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কামরুল দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট শহরে যান। সেখানে কয়েক দিন অবস্থান শেষে সোমবার বিকেলে সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্টেশন থেকে দিরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ডাবর এলাকায় বাস থেকে নেমে তিনি প্রথমে মেয়ে তুলনাকে হাওরের পানিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ছেলেকে নিয়ে পাগলা বাজারে গিয়ে একটি পানির বোতল ও ঘুমের ওষুধ কেনেন। শিশুটিকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানোর পর দিরাইয়ের দিকে যাওয়ার পথে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে করে বাস থেকে নামেন। পরে তাকেও দেখার হাওরের পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন কামরুল।
এদিকে দুই শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ করছিলেন। পরে কামরুলের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখার হাওরের পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, দুই শিশুর মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।