রংপুরে শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে তিনটি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুতের লাইন। উড়ে গেছে ঘরের টিনের চাল। এতে হাজার হাজার হেক্টর উঠতি বোরো, ভুট্টার এবং আমের বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) গংগাছচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়ন বাদে নয়টি ইউনিয়নেই কালবৈশাখীর ছোবল হেনেছে। এতে এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘর ভেঙে আহত হয়েছে অন্তত দশজন।

এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝড় শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিটের ঝড়ো হাওয়ার পর শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে এই ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডব। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাগঞ্জ ও গংগাচড়া উপজেলায়। এছাড়া রংপুর মহানগরী, বদরগঞ্জ, পীরগাছা উপজেলার বেশকিছু এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গংগাছচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ৩০ বান্ডিল টিন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। এবং প্রত্যেক ইউনিয়নে তিন টন করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন।’

রংপুর সদর উপজেলার ইউএনও সাইফুল ইসলাম জানান, ‘কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তার উপজেলার ৭৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় টিন এবং অর্থের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।’

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল জানান, ‘শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে ইকোর চালি ইউনিয়নের ৯৫টি পরিবারের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের জন্য টিন এবং অর্থ সহযোগীতার তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিদুল হক জানান, ‘তার উপজেলার সারাই ইউনিয়নে বেশকিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভুট্টা ও বোরোর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও জানান তিনি।’

রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘উত্তর জমির বড় তার আবাদ প্রাথমিকভাবে হেলে পড়েছে। সাত দিন পর বোঝা যাবে সেটার ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা। এছাড়া হাড়িভাঙ্গা আমসহ বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়ির আম ঝরে পড়েছে বলেও জানান তিনি।’

রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, ‘উপজেলাগুলো থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ আমরা ইতোমধ্যে হাতে পাওয়ার পর সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। গংগাচড়া উপজেলায় টিন এবং অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি পরিবারের পাশে থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম জানান, ‘ফিলাপ বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীতে বিভাগে আট জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে তালিকা করছে জেলা প্রশাসন। পাওয়া মাত্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন এবং অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।