আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, ‘কালো টাকা ও পেশিশক্তি দিয়ে ভোট কুক্ষিগত করার কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া যাবে না। ভোটকে সামনে রেখে নৈরাজ্য সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। আর এই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।’

আজ শুক্রবার নগরীর হোটেল সৈকতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন : শ্রমিক নেতৃবৃন্দের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান রুমান, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী শফিউল আলম।

কর্মশালায় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান কেউ কোনোদিন মুছে ফেলতে পারবে না। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়েছে ঘাতকের বুলেটের সামনে। এই সাহস থেকে প্রেরণা নিয়ে আমরা শ্রমিকবান্ধব ও নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র গড়তে চাই।’

সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে জুলাই বিপ্লবকে যারা ধারণ করে, শ্রমিকরা তাদের পক্ষ নেবে। যারা এই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করতে চায়, শ্রমিকরা তাদের রেড কার্ড দেখাবে। যারা শ্রমিকদের রক্তের সাথে বেইমানি করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে চায়, শ্রমিকরা তাদের ক্ষমা করবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের রাজনৈতিক বন্ধুদের বলতে চাই, পুরোনো যুগের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি পরিহার করুন। সুস্থ ধারার রাজনীতি করুন। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নাটকীয় বহিষ্কার নয়, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। জনগণ আর কোনো অপরাজনীতি সহ্য করবে না। সময় থাকতে সাবধান হোন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করুন এবং জনগণের মনের ভাষা উপলব্ধি করে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করুন।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের নগর সহ-সভাপতি মকবুল আহম্মেদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ, অধ্যক্ষ আসাদ উল্লাহ আদিল, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুন্নবী, দফতর সম্পাদক স.ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, পাঠাগার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক এবং সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ তাওহীদ আজাদ প্রমুখ।