ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে পাথরের দাম বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।
দেশের ১৮তম স্থলবন্দর সোনাহাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও গত চার দিনে একটি ট্রাকও আসেনি।
বুধবার সরেজমিনে স্থলবন্দরে দেখা যায়, ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ না করায় ওয়্যারহাউস ফাঁকা পড়ে আছে। পাথর ভাঙার মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে এবং শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, বর্তমানে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন তা নিম্নমানের ও আকারে ছোট। এসব পাথর ভাঙার পর কাঙ্ক্ষিত আকার পাওয়া যায় না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওই পাথর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এছাড়া আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার, যা বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে পাথর আনতে আগে যেখানে খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬৭০ টাকা।
স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিকরা জানান, পাথর না আসায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দৈনিক আয়ও কমে গেছে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মাইদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছেন। আসামের নতুন সরকার পাথরের রয়্যালটি অনুমোদন না দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাথরের দামও বাড়ানো হয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, চাহিদামতো মানসম্মত পাথর না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দু’দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।