জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অধীনস্থ সাভারের এনএফডিআই শপিং কমপ্লেক্সেকে পতিত সরকারের দোসর ও চিহ্নিত চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা।
আজ শনিবার দুপুরে সাভার বাসস্ট্যান্ডের মার্কেটের সামনে বিরুলিয়া সংযোগ সড়কে মানববন্ধন করেন তারা।
এ সময় তারা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অবৈধ দোকান দখল মুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাধব চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার।
তিনি বলেন, জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অধীনস্থ এনএফভিআই শপিং কমপ্লেক্সের জমিদারি ভাড়া দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পতিত সরকারের সময় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ট সহযোগী চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অবৈধ মার্কেটের দোকান দখলকারী ও চাঁদাবাজ নজরুল ইসলাম ওরফে মুরগি নজরুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হেলাল ওরফে মুরগি হেলাল, সোহেল ওরফে ল্যাংড়া সোহেল, মাহবুবুল হাসান খোরশেদ ওরফে মুরগি খোরশেদ, আনোয়ার হোসেন ওরফে ফটকা আনোয়ার, রিপন ওরফে কাইল্লা রিপন, বেলাল উদ্দিন মনাসহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জন কতিপয় চাঁদাবাজ বিভিন্ন সময় জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অধীনস্থ এনএফভিআই শপিং কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়, মার্কেটে দোকান দখল এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার আরো বলেন, গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে উপরোক্ত দুষ্কৃতিকারীরা কিছুদিন নীরব থাকলেও খোলস পাল্টে আগের মতো সেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আরো তৎপর হয়ে উঠেছে এবং নতুন কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের নাম ভাঙ্গানো, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গানোসহ কতিপয় সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে আগের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে চাঁদাদাবি, ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি, অবৈধভাবে এনএফডিআই শপিং কমপ্লেক্সের দোকান লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ এবং জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সহযোগী সদস্যদের জীবননাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এর আগেও পতিত সরকারের সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই নজরুল ইসলাম ওরফে মুরগী নজরুল মার্কেটের উন্নয়ন ও মসজিদ উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে এবং চাঁদা আদায় করে।
তিনি আরো বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার তিন দিন আগে নজরুল ইসলাম ওরফে মুরগী নজরুলের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী চক্রটি জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অধীনস্থ এনএফডিআই শপিং কমপ্লেক্সের অফিসে এসে মার্কেট ইনচার্জ আব্দুর রহিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে বিভিন্ন প্রকার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পবিত্র ঈদুল আযহা শেষে চতুর্থ দিনের মাথায় অপরাধ চক্রটি মার্কেটে সশস্ত্র মহড়া দেয় এবং পুনরায় মার্কেট ইনচার্জ আব্দুর রহিমকে অফিসে এসে শাসিয়ে চাঁদা পরিশোধ না করলে গুলি করে হত্যা করবে মর্মে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গত ২৩ জুন রাত ১১টায় এনএফপিআই শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিরুলিয়া রোডে পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মার্কেট ইনচার্জ আব্দুর রহিমকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করে। তাদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগী সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।