রংপুরে ইটভাটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে একে সাংবাদিককে কুরিয়ার যোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কুরিয়ার সার্ভিসে ওই পার্সেলটি আসে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান ও রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানের কাছে।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক জানান, মাই টিভির সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান তার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে কুরিয়ার সার্ভিসে ওই প্রতিনিধির নামে একটি পার্সেল আসে। এতে দু’টি কাফনের কাপড়ের সাথে দু’টি প্রিন্ট করা চিঠি ছিল। কাফনের কাপড় ও চিঠিগুলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়া থেকে পাঠানো হয়েছে। প্রেরকের ঠিকানায় পীরগঞ্জের মিলনের নাম ও ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়।
সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, চিঠির একটি খামে লেখা আছে, ‘ভাটা মালিকের কাজই মূলত সবসময় আগুন নিয়ে খেলা করা, তোর সময় শেষ, রংপুর মিঠাপুকুট বা বা সুবিধামতো জায়গা পেলেই খেল খতম। অপেক্ষার প্রহর গণনা শুরু।’ আরেকটা খামে লেখা আছে, ‘অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তোর কারণে। এবার আমার খেলা শুরু। ঠিকমতো পছন্দের খাবার খেয়ে নে রে হারামখোর।’
হুমকি পাওয়ার সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটা নিয়ে আমি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে ইটভাটা মালিকদের সাজানো মানববন্ধনের খবর প্রকাশ করেছি। এছাড়াও কিছুদিন আগে নিউজ করায় এক ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক দরখাস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পীরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রীয় কয়েকটা নিউজ করেছি, সেখান থেকেও হতে পারে। হুমকিদাতারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রেরকের জায়গায় দৃষ্টি আড়াল করতে একজন সাংবাদিকের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছে। আমি সবকিছু জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমি নিরাপত্তা চাই।’
এ বিষয়ে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব ও রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, ‘সাংবাদিক মাহমুদুল হাসানকে যারা কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, তাদের লেখা চিঠিতেই স্পষ্ট তারা কারা। আমরা মনে করি এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। থানায় জিডি হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
একইসাথে তিনি পীরগাছা উপজেলায় দৈনিক সংবাদ-এর প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস সরকার, আমাদের কণ্ঠের প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ বাবু ও প্রথম খবরের প্রতিনিধি সুমনের বিরুদ্ধে দায়েকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এছাড়াও মিঠাপুকুর আমাদের সময়ের প্রতিনিধি খন্দকার রাকিবুল ইসলামকে হুমকিদাতা পায়রা বন্দ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিও জানান তিনি।
রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব লিয়াকত আলী বাদল জানান, দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া না হলে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি কার্যালয় এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে রংপুরের সাংবাদিকরা। তাতেও দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে।
তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।