ঢাকার ধামরাইয়ে আবাসিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
পরে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধামরাই থানা ও গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।
অবরোধকারীরা জানান, গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিশাষী, কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকেরা প্রায় দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। সংযোগ থাকলেও বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার, কাঠসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। অথচ নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকেরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না।
তাদের দাবি, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারভিত্তিক বিল আদায়ের জন্য আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মিটার স্থাপন করতে হবে।
অবরোধে অংশ নেয়া কালামপুর এলাকার গৃহবধূ সুলতানা বেগম নামে এক গ্রাহক বলেন, সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে। আর যত দিন গ্যাস পাইনি, তত দিনের বিল মওকুফ করতে হবে।
শাহানা আক্তার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, আমার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, স্বামী চাকরি করে। সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, আমাদের গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। আর যতদিন আমরা গ্যাস পাইনি, ততদিনের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন। তিনি গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।