মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে তেলবাহী কাভার্ডভ্যান ডাকাতির ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় লুণ্ঠিত ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল, একটি কাভার্ডভ্যান এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন আব্দুল গনি মিয়া (২৮) ও অভি রহমানকে (২৮)।
পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে যশোরের উদ্দেশে ৬৬৫ কার্টন (১১ হাজার ৯৭০ লিটার) সয়াবিন তেল নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান রওনা হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়নের উমপাড়া ওভারব্রিজের উত্তর পাশে ঢাকা-মাওয়া সার্ভিস রোডে পৌঁছালে জ্যাক পিকআপভ্যানে আসা সাত থেকে আট সদস্যের একটি ডাকাত দল তেলবাহী কাভার্ডভ্যানটির গতিরোধ করে। তারা চালক ও সহযোগীকে জিম্মি করে নিজেদের পিকআপে তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে কেয়টখালী এলাকায় হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে রেখে তেলভর্তি কাভার্ডভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় মামলা করা হলে পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও শ্রীনগর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আব্দুল গনি ও অভিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত কাভার্ডভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান এবং নয় কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। এরপর বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজারের একটি ভাড়া গোডাউন থেকে ৫৮৫ কার্টন এবং অপর একটি গোডাউন থেকে আরো ৫৮ কার্টন ৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, মোট ৬৫২ কার্টন বা ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো ১৩ কার্টন তেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।