ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের তিন দিন পর পৃথক অভিযানে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হবে।
গ্রেফতাররা হলেন মো: হুমায়ুন (৩০) ও মো: কাউসার মিয়া (২৪)। তারা নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওবায়দুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ছায়াতদন্ত শেষে শনিবার মামলা রজ্জু করা হয়। এ মামলায় আটক দু’জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ রোববার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী (১৩) বাড়ি থেকে বের হয়। স্কুলের সামনে গিয়ে দেখা হয় প্রতিবেশী চাচা মো: হুমায়ুনের বন্ধু মো: কাউসার মিয়ার সাথে। ওই ব্যক্তি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে স্কুলের সামনে থেকে মেয়েটিকে নিয়ে যান। এরপর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উচাখিলা ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকার একটি দোকানঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এর আগে, কাউসার মেয়েটিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নিয়ে যাওয়ার পথে যুক্ত হন মো: হুমায়ুন।
এদিকে চাচা হুমায়ুন মেয়েটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ঘটনা কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যান। এর মধ্যে ওই ছাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে ওই দিন বিকেলে সে পরিবারের লোকজনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু মেয়েটির পরিবার মীমাংসায় রাজি হয়নি। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর কিশোরীর বাবা থানায় একটি অভিযোগ দেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে হুমায়ুনকে আটক করে। অপর দিকে র্যাব-১৪ অভিযান চালিয়ে জাটিয়া এলাকা থেকে শনিবার সকাল ৮টার দিকে কাউসার মিয়াকেও আটক করে। পরে র্যাব সদস্যরা কাউসারকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন।