নাটোরের জেলা প্রশাসকের পুরনো বাংলোর নির্জন জঙ্গলে মিলল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় শত বস্তা ব্যালট পেপার। যার বেশির ভাগই সিলমারা।

শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিসির পুরনো বাংলোর নিচে জঙ্গলের মাটিতে পুঁতে রাখা ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে বেশির ভাগ ব্যালট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

এর আগে, নাটোর সদরের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের আলোচিত বাড়ি জান্নাতি প্যালেসের নিকটবর্তী জেলা প্রশাসকের পুরনো বাংলো সংলগ্ন তালাবঘাট পুকুর থেকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দ্বিতীয় দিনের মতো ডিসির পুরনো বাংলোর ভিতরের পুকুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলছিল। এসময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সদস্যরা এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় তাদের নজরে আসে রাখা ব্যালট পেপারগুলো। এসময় খবর পেয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) একরামুল হক, সেনাবাহিনীর সিও মুক্তাদির হোসেনসহ বিভিন্ন সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ব্যালট পেপারগুলো উদ্ধার করে।

জেলা প্রশাসকের পুরনো বাংলোর অফিস সহায়ক মো: তসলিম উদ্দিন এসব প্রশাসনের লোকজনকে জানান, ৫ আগস্টের পর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমানের সময় ব্যালট পেপারের এই বস্তাগুলো এখানে আনা হয়। ব্যালট পেপারের সাথে এসময় বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম ও পুরাতন টেলিফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নাটোর নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারগুলোর সংরক্ষণের মেয়াদ ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ায় এগুলো ধ্বংসের জন্য ডিসির বাংলোতে আনা হয়েছিল। ডিসির বাংলো থেকে পরে কিভাবে এগুলো গর্তে ফেলা হলো তা তার জানা নেই।

তবে সংরক্ষিত এলাকার একই স্থান থেকে আগের দিন ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার পরের দিন আবার এতো পরিমাণে ব্যালট পেপার উদ্ধার নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ব্যালট দেখে আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনের সঠিক চিত্র বোঝা যাচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান বলেছেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার ও ব্যালট উদ্ধারের ঘটনা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।’