প্রভাবশালীদের মদদ
উজিরপুরে গ্রাম-গঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি
গ্রামের মানুষজন শহরে যেতে না পারায় আগের চেয়ে আরো বেশি বেশি ছুটছেন এসব ভুয়া চিকিৎসকের কাছে।
স্থান
উজিরপুর
বরিশালের উজিরপুরে প্রভাবশালীদের মদদে ভুয়া চিকিৎসক ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিতে ভরে গেছে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা। কথিত এ চিকিৎসকদের দ্বারা খুব সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। কিন্তু এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন কোনো নড়াচড়া নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের চতল বাড়ি, ডাবেরকুল বাজার, বামরাইল ইউনিয়নের ঈদগাহ মার্কেট, বামরাইল বন্দর, শোলক ইউনিয়নের ধামুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ইনডেক্স সেলস সেন্টার চিকিৎসা ও বিক্রয়কেন্দ্র নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রোগীদের প্রতারিত করে চলেছেন এসব ভুয়া চিকিৎসকরা।
এই চিকিৎসকদের পাল্লায় পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রোগীদের জীবন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষজন শহরে যেতে না পারায় আগের চেয়ে আরো বেশি বেশি ছুটছেন এসব ভুয়া চিকিৎসকের কাছে। এ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও বাণিজ্যের গেঁড়াকলে পড়ে অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। আবার অনেকেই তাদের দেয়া ভুল ওষুধ সেবন করে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর সরকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল নামে একটি আইন অনুমোদন দেয়। এই আইন মতে এমবিবিএস ও বিডিএস পাশ করা চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার বা ডিগ্রি লিখতে পারবেন না।
কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ আইন লঙ্ঘনের চিত্র ভুরভুরি।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও নানা কারণে সাধারণ মানুষ এসব থেকে চিকিৎসা বঞ্চিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত কর্মস্থলেও যান না। ফলে চিকিৎসা সেবা পান না সাধারণ মানুষ। এসবের সুযোগ নিয়েও এই ভুয়া চিকিৎসক শ্রেণির উত্থান ঘটছে বলে অনেকের মত।
মিজান বিশ্বাস নামে শোলক ইউনিয়নের দত্তসার গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, গ্রামের ভুয়া এসব চিকিৎসকদের কাছে মানুষ বেশি যাচ্ছে। শহরের হাসপাতাল, বা ক্লিনিকে অনেকেই টেস্ট বা পরীক্ষার ভয়ে যেতে চাচ্ছে না। তাই তারা ছুটছে এই ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে ভুয়া চিকিৎসকদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় সম্প্রতি এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে শুরু করেছে বরিশাল জেলা কার্যালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত (২৯ এপ্রিল) উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা এলাকায় মায়ের দোয়া ক্লিনিক চেম্বার থেকে এক ভুয়া ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ ভুয়া চিকিৎসককে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শওকত আলি বলেন, এমবিবিএস ও বিডিএস পাশ করা চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না। বর্তমানে যারা পল্লী চিকিৎসক রয়েছেন, তাদের কোনো প্রশিক্ষণ বা সরকারি সার্টিফিকেট নেই। তারাও ভুয়া চিকিৎসক। আবার অনেকে আছেন, ফার্মেসি খুলে লাইসেন্সবিহীন ডাক্তার সেজেছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযান প্রসঙ্গে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক সেজে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন এসব ভুয়া চিকিৎসক। অভিযানের খবর পেলেই সবাই চেম্বার ও দোকান বন্ধ করে পালায়।