মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে প্রায় দুই বছর ধরে লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করলেও সেখানে দায়িত্ব পালন না করে লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (নায়েব) অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

সরেজমিনে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় আলী হোসেনের নিয়মিত স্বাক্ষর থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তার উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে তিনি নায়েবের দাফতরিক কাজে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে আলী হোসেন লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তার পদায়ন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে হলেও কার্যত তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে অন্য কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আলী হোসেনের পদায়ন, দায়িত্ব পালনের আদেশ, হাজিরা খাতা এবং গত দুই বছরের উপস্থিতির তথ্য যাচাই করে বিষয়টি তদন্ত করা হোক।

শুধু কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগই নয়, আলী হোসেনের বিরুদ্ধে নামজারি কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, আলী হোসেন দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে এ এলাকার ভূমি অফিসে কর্মরত। দীর্ঘদিন একই এলাকায় থাকার কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। তার মাধ্যমে নামজারিসহ বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। নামজারির জন্য নির্দিষ্ট কোনো টাকা নেয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, কোনো কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে অফিস সহায়ক আলী হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, বিষয়টি তিনি আগে অবগত ছিলেন না। প্রতিবেদকের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। পদায়নের বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। আর নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।