সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের বৌলাই নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনকারী ট্রলার ডুবির ঘটনা দুই নারী ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে রাতেই স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের তাপস চক্রবর্তীর স্ত্রী বিউটি চক্রবতী (৫০), নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাতনি গ্রামের কল্পনা সরকার (৫০), একই গ্রামের নিরেশ সরকারের মেয়ে রুদ্রা সরকার (৬), একই জেলার কলমাকান্দা থানার ভাটিপাড়া গ্রামের সুজিত সরকারের মেয়ে গঙ্গা সরকার (৬)।
এছাড়াও হাতনি গ্রামের নিরদ সরকারের ছেলে সৌরব সরকারকে (১০) মুমূর্ষু অবস্থায় জামালগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে একটি ট্রলার মধ্যনগর থেকে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে জামালগঞ্জের উদ্দেশ্য রওনা হয়। বেহেলি ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আসার পথে হেরাকান্দি নামক স্থানের বৌলাই নদীর তেগাঙ্গের মুখে বাঁক ঘুরতে গিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মতো যাত্রী ও তাদের মালমাল, সিমেন্টের বস্তা, টিন, বাজার-সওদাসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল ছিল। যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা জামালগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয় এবং উদ্ধার কাজ চালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দুই নারী ও দুই শিশুর লাশসহ আহতদের উদ্ধার করে।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সহায়তায় লাশ শনাক্ত করি। নিহত চারজনের মধ্যে একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে। বাকি তিন জনের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দা উপজেলায় তারা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। নিহতদের স্বজনদের সামনে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রাতেই এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়।