মায়ের কোল থেকে ৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য এক শিশু কন্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে দেড় লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামে।
এ ঘটনায় ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন শিশুটির মা পপি বেগম।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামপাশা গ্রামের মানিক বিশ্বাসের ছেলে কাইয়ুম বিশ্বাসের (৪০) সাথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের হান্নান সরদারের মেয়ে পপি বেগমের (৩৭) বিয়ে হয় ৩ বছর আগে। ৮ মাস আগে তাদের সংসারে তানহা আক্তার নামে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।
তবে দাম্পত্য কলহের জের ধরে তাদের মাঝে বনিবনা হচ্ছিলো না। এ অবস্থায় গত বছরের ২ নভেম্বর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এক সালিশের মাধ্যমে স্ত্রী পপি বেগমকে খোলা (মৌখিক) তালাক দেন স্বামী কাইয়ুম। আর দুগ্ধপোষ্য শিশু মেয়ে তানহাকে কয়েকদিন পরে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মায়ের নিকট থেকে কেড়ে নিয়ে রেখে দেন বাবা কাইয়ুম।
এরপর নগরকান্দা উপজেলার শাখরাইল গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে কোহিনুর বেগমের নিকট দেড় লাখ টাকায় শিশু মেয়েটিকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পপি বেগম বলেন, ‘তার অনুপস্থিতিতে আলমগীর তালুকদার নামে এক দলিল লেখকের মধ্যস্থতায় কোহিনুর বেগমের কাছে বিক্রি করে। এরপর তিনি মেয়েকে ফেরত চেয়ে কাইয়ুম বিশ্বাস, তার তিন বোন মিতা আক্তার, বুলি বেগম, সাগরী আক্তার ও মিতুল নামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আদালতে একটি মোকদ্দমা দাখিল করেন।’
তিনি বলেন, ‘তাকে খোলা তালাক দেয়ার পরে দুধের মেয়েটিকে জোর করে রেখে দেয় তার স্বামী। তখন বলছিলো পরে মেয়েকে নিয়ে আসতে। কিন্তু তারপর কয়েকবার মেয়েকে আনতে যান। কিন্তু মেয়েকে ফেরত দেয়ার বদলে উল্টো তাকে হুমকি-ধমকি দেয়। সর্বশেষ গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মেয়েকে আনতে রামপাশা গ্রামে গেলে স্বামী কাইয়ুম বিশ্বাস তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। আর কোনোদিন মেয়েকে চাইলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।’
পপি আরো বলেন, ‘মেয়েটারে দেখার জন্য আমি কোহিনুরের বাড়িতেও গেছি। তারা মেয়েটারে দেখতেও দেয় নাই। বলছে- দেড় লাখ টাকায় মেয়েরে তারা কিনে নিছে। যারা বিক্রি করে দিছে তাদের কাছে যাও। কোহিনুরের মায়ের পা পর্যন্ত জড়ায় ধরছি। অনেক কান্নাকাটি করছি। তবুও তারা আমার মেয়েটারে একনজর দেখতেও দেয় নাই।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুধের বাচ্চাটা কি খাইতেছে জানিনা। বুকের দুধ না পাইয়া শুকায় গেছে। আমার চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না, খাবার পারি না। আমার কলিজাটা শুকায় গেছে। আমি আমার মেয়েরে ফেরত চাই।’
এ বিষয়ে কাইয়ুম বিশ্বাসের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বোন মিতা আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করলে অপর এক ব্যক্তি রিসিভ করে মিতার স্বামী পরিচয় দিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে কলটি কেটে দেন।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ সফর আলী জানান, ‘এ ঘটনায় আদালত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে। তবে মামলায় বাচ্চাটিকে যে ঠিকানায় বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে পেলে আদালতে পাঠানো হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মা অথবা বাবার কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে।’