জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের শিরায় শিরায় মানুষের রক্ত লেগে আছে। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, কিশোরসহ সব বয়সী হাজারো মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। এ গণহত্যাকারীদের কোনো ক্ষমা নেই। তাই তাদের নিষিদ্ধ এবং বিচার করতে হবে। তার আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি অবিলম্বে বগুড়া বিমান বন্দর চালু, একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন ও ঢাকা থেকে বগুড়া সরাসরি রেললাইন চালুর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন করেনি আওয়ামী লীগ। বগুড়ার নাম শুনলেই সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়ন করা হতো না। এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শুধু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেই ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেনি। তারা পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের, শাপলা চত্বরে শতশত আলেমকে, সারাদেশে হাজারো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা-গুম করেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না।’

সারজিস আলম বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান মিলন এ জেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্যালেস মিউজিয়াম দখল করেছে। একইসাথে জেলা ক্রীড়া সংস্থা দখল করেছে। তার মতো অসংখ্য আওয়ামী দালাল বগুড়ায় রয়েছে। এসব দালালদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। আওয়ামী দোসরদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। বগুড়া থেকেই এ প্রতিরোধের যুদ্ধ শুরু হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বগুড়া জেলা সংগঠক আব্দুল্লাহিত তাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপি’র যুগ্ম-মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাকিব মাহদী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এনসিপি’র যুগ্ম-সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, যুগ্ম-মূখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান, যুগ্ম-মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, যুথী অনন্য প্রীতি, রফিকুল ইসলাম, বগুড়ার সংগঠক সৈয়দ সোহেল আহম্মেদ লিটন, আহমেদ সাব্বির, সাকিব খান, শহীদ রাতুলের ভাই হামজা, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জল প্রমুখ।

এছাড়া সমাবেশ মঞ্চে বগুড়ার শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।