চট্টগ্রামে নৌ-বাহিনীর অফিসার ক্যাডেট পদের মেডিক্যাল পরীক্ষায় এক প্রার্থীকে ‘শিবির’ ট্যাগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

ভুক্তভোগী আবিদ রাফি নামের ওই প্রার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, সোমবার (২৮ এপ্রিল) নৌ-বাহিনী স্কুলে মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় এক কর্মকর্তা তার বাড়ির ঠিকানা সাতকানিয়া শুনে তাকে শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করেন। এরপর তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং চিকেনপক্সের দাগকে ‘ছররা গুলি’র দাগ বলে মন্তব্য করা হয়।

তিনি আরো লিখেছেন, পরীক্ষক তাকে ‘তুই’ সম্বোধন করে ‘শিবির নাকি’, ‘কি দায়িত্ব ছিল’ ইত্যাদি প্রশ্ন করেন।

আবিদ রাফি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অনেক তরুণকে এভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হতে হয়।’

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। অনেকেই পেশাদার বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক সাদিক কায়েম আবিদ রাফির পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘শাহবাগ আন্দোলনের সময় জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এই বৈষম্যমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যোগ্যতা থাকলে কারো রাজনৈতিক পরিচয় কেন বিবেচ্য হবে?’

আবু বকর সামিত নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন রাখেন, ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ ও জন্মস্থানের কারণে কী ট্যাগের অপতৎপরতা চালু থাকবে আজকের বাংলাদেশেও!

শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন যে বৈষম্য দূরিভূত করার জন্য বাংলাদেশে দুই হাজার তরুণ জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়লো সেই বাংলাদেশে ভিন্ন স্টাইলে বৈষম্য চলতে পারে না।