সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিতে কোরবানির দ্বিতীয় দিনে ট্যানারি শ্রমিক আর মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানি ঈদের দিন দুপুর থেকে চামড়া ঢুকতে শুরু করলে তাদের কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণের এ কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে দিন-রাত এ পরিশ্রম করে চলছে। চামড়া বহনে ব্যবহার হয় পিকঅ্যাপ ও ট্রাক।

এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয় না করার অভিযোগ উঠেছে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে।

আজ রোববার সাভারে বাংলাদেশ বিসিক শিল্প নগরীতে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ট্যানারিগুলোতে আসছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া। এর আগে, গতকাল শনিবার ঈদের দিন দুপুর থেকে ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়। সকাল থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে পশুর চামড়াবোঝাই ট্রাক ট্যানারিতে নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। আর ট্যানারিগুলোর শ্রমিক ও মালিকরা চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক ও পিকআপে করে আসা কাঁচা চামড়া নামিয়ে গণনা করে ভেতরে নিচ্ছেন শ্রমিকেরা। পরে চামড়া থেকে লেজ ও মাথার অংশ কেটে আলাদা করা হয়। এরপর প্রতিটি চামড়ায় লবণ দিয়ে তা স্তুপ করে রাখা হচ্ছে।

ট্যানারি শ্রমিকরা বলছেন, কোরবানির ঈদে অনেক ব্যস্ততা থাকে তাদের। চামড়ায় লবণ লাগানোর কাজে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকরা প্রতিটি চামড়ার জন্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা দেয়া হয়। ঈদের মধ্যে দিন-রাত কাজ করতে হয়। পরিবারের সাথে ঈদ করতে সম্ভব হয়নি, খারাপ লাগে।

আবার শ্রমিকরা বলছেন সবাই মিলে কাজ করার আনন্দও আছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন মাদরাসার পক্ষ থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসা এবং অন্য মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরকার যেখানে সর্বনিম্ন গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। আর ঢাকার বাহিরে সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৫০টাকা। সেখানে ট্যানরি মালিকরা তাদের নিকট থেকে ৮০০ টাকা ক্রয় করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও কম দামে ক্রয় করছেন।

মুন্সিগঞ্জ দেওবোগ বড় মাদরাসা থেকে ৫০০ কাঁচা চামড়া সকালে নিয়ে আসেন ওই মাদরাসার এক হুজর। তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত দামে আমরা কখনোও মূল্য পাইনি। চামড়ার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজার হিসেবে যে মূল্য তাও বেশি না।

সূত্র জানায়, সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ১৪০টি কারখানায় এ বছর ঈদের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতিটি কারখানা ও আড়ৎয়ে আমদানি করা হয়েছে পর্যাপ্ত লবন ও রাসায়নিক দ্রব্য।

উল্লেখ্য, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট এক কোটি পাঁচ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার চামড়া সংরক্ষণে এক লাখ টন লবণ প্রয়োজন। দেশে এবার সর্বোচ্চ ২৪ লাখ ৩৭ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। লবন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। চামড়াবাহী গাড়ি যেন নির্বিঘ্নে শিল্প নগরীতে প্রবেশ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।

সালমা ট্যানারির মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ নয়া দিগন্তকে জানান, গতকাল শনিবার থেকে আজ (রোববার) ভোর ৬টা পর্যন্ত সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে গরুর কাঁচা চামড়া (লবণ ছাড়া) সাড়ে ৩ লাখ পিছ। আর ছাগলের ২০ থেকে ২৫ হাজার পিছ সংগ্রহ করা হয়। গরুর কাঁচা চামড়া (লবণ ছাড়া) গড়ে ৭০০ টাকা ঘেকে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে ক্রয় করেন তারা।