বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও পীর-মাশায়েখদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্ট চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের ভোটের বাক্স হবে একটি। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ইসলামপন্থীদের ঐক্যের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তত। তাই জামায়াত আগের ঘোষিত যেকোনো আসনের প্রার্থী সরিয়ে নিবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর একটি দল নিজেদেরকে দেশের অঘোষিত মালিক মনে করছে। তারা অপরাধীদের থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নিচ্ছে। দেশব্যাপী চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে। কোন কোন জেলার ডিসি বিএনপির সভাপতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। এসব দলকানা কর্মকর্তাদের অপসারন করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের সেই সব পদে বসাতে হবে। মনে রাখবেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দলকানা কর্মকর্তাদের অবস্থা আজ কী?‘
আজ শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক শহীদ টিটু মিলনায়তনে বগুড়া জেলা ও মহানগর উলামা-মাশায়েখ পরিষদ আয়োজিত বিশাল উলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে দেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সবার নিকট গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সরকারকে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া যেনতেনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর অপচেষ্টা হলে দেশের আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দাঁড়াবে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আলেম সমাজ অনেক ভূমিকা রেখেছেন। কিন্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। জুলাই বিপ্লবের পর সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে বর্তমানে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ। বৃহত্তর ইসলামী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ইতোম্যেই নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ভেতরে ভেতরে সকল ইসলামী দল ও পীর-মাশায়েখগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের সকল ইসলামপন্থীদের ভোটের বাক্স হবে একটাই।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার সরকার আলেম-উলামাদের নির্বিচারে জেলে বন্দী করেছিলেন। অথচ সেই জেলখানাতে বসেই আলেম সমাজ নিজেদের ভেতর ঐক্যের ভীত রচনা করেছেন। আগামী নির্বাচনে সেই ঐক্যের সত্যিকারের বাস্তবায়ন জাতি দেখবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আলেম সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। অসংখ্য আলেম শহীদ হয়েছেন। দেশের মানুষের জন্য আলেমরা অকাতরে রক্ত ঝরিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমরা আন্দোলন করেছি এবার দেশ গড়ার কাজেও আমাদের সবাইকে শীসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে হত্যা করেছে। এ সকল হত্যার সাথে জড়িত বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা যেখানে ঘাপটি মেরে আছে, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের পূনর্বাসন করে হাজারো শহীদের সাথে বেঈমানী জনগণ মেনে নিবে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মসজিদে জুমআর খুতবায় ঐক্যের বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের মসজিদ হবে ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু। সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে ইসলামপন্থীদের বিকল্প নাই। তাই একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, মানিবক বাংলাদেশ গড়তে ইসলামের বিজয় অনিবার্য্য। আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে এদেশে ইসলামের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
উলামা মাশায়েখ পরিষদ বগুড়া শাখার সভাপতি মাওলানা আলমগীর হুসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ শায়েখ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ, কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগের সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
বগুড়া জেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাসেত ও শহর সেক্রেটারি ড. আবু সালেহ মামুনের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, জামিল মাদরাসার মুঈনে মুহতামিম মুফতি মাওলানা আতাউল্লাহ নিজামী, কারবালা মাদরাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা কাজী ফজলুল করিম রাজু, ইসলামী আন্দোলন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আ.ন.ম মামুনুর রশীদ, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন, খেলাফত মজলিসের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মামুন রহমানী।
উল্লেখ্য, সম্মেলনে ১০ দফা প্রস্তাবনা অনুমোদন করা হয়। এতে দুই হাজারের অধিক সর্বস্তরের আলেম অংশগ্রহণ করেন।