এবারের ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে পারছেন। যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতুতে যানজটের কোনো ভোগান্তি নেই।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (৩ জুন) মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ২৫ হাজার ২৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার থেকে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
ঈদপূর্ব গত ছয় দিনে (২৯ মে থেকে ৩ জুন) রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গ ও ঢাকাগামী প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার ২৬৭টি বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছে। আজও (বুধবার) অন্যান্য দিনের মতোই টোলপ্লাজায় ঘরমুখো মানুষের এসব গণপরিবহনের চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিন দুপুরের রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মা সেতু হয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেলসহ দূরপাল্লার যানবাহন কিছুটা বেশি চলাচল করলেও টোলপ্লাজায় আটকে থাকার কোনো জনভোগান্তি ছিল না। এর কারণ হিসেবে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে আটটি করে মোট ১৬টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকাকে উল্লেখ করা হচ্ছে, যা ঈদে ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘ্নে সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম করছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মে ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৬ হাজার ৯৯১টি যানবাহন পারাপার হয়, যার থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা টোল আদায় হয়। ৩০ মে ১৮ হাজার ৯৩৫টি যানবাহন থেকে দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫০ টাকা, ৩১ মে ১৯ হাজার ৩২টি যানবাহন থেকে দুই কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা, ১ জুন ২০ হাজার ৬০২টি যানবাহন থেকে দুই কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং ২ জুন ২২ হাজার ৪৩৩টি যানবাহন থেকে তিন কোটি ছয় লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। সর্বশেষ ৩ জুন ২৫ হাজার ২৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়ে তিন কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৫০ টাকা টোল আদায় হয়, যা গত ছয় দিনে মোট প্রায় এক লাখ ২৩ হাজার ২৬৭টি গণপরিবহন পারাপারের ইঙ্গিত দেয়।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুত পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে চলার নির্দেশনা দিয়েছিল সেতু বিভাগ। এর ফলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট হচ্ছে না এবং কোনো যানবাহনকে আটকে থাকতে হচ্ছে না।
এছাড়া, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় আটটি ও জাজিরা প্রান্তে আটটিসহ মোট ১৬টি বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় সামাল দেয়া এবং টোল আদায় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে বিশেষ বাড়তি ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
এদিকে, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা, ছনবাড়ী, খানবাড়ীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি টহল টিম বসিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বন্ধে টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভাগ।
সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, ‘টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল বাড়লেও অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই এসব যানবাহন পদ্মা সেতু অতিক্রম করছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে মোট ১৬টি টোল বুথ সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখায় টোলপ্লাজায় যানজটে আটকে থাকার কোনো জনভোগান্তি নেই। একইসাথে ঈদের আগ মুহূর্তে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামলাতে টোল প্লাজায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেবা দিতে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ জন অতিরিক্ত টোল কালেক্টর।’
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী নয়া দিগন্তকে জানান, ‘দিনভর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চলাচল বেড়েছে তবে কোথাও কোনো যানজটের জনভোগান্তি নেই। ঈদের আগ মুহূর্তে আজ থেকেই ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহন ও ঢাকামুখী পশুবাহী যান চলাচল আগের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের আটটি ইউনিট দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা এড়াতে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বন্ধে বিভিন্ন পয়েন্টে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।’