রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নানান অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছে ফরিদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় ৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে উপস্থিত ছিল না।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে ওই হাসপাতালে দুদক ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের ফ্রেরুয়ারি মাসেও দুদুক একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান করেছিল। ওই সময় তখন দুদক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল।

এবার বৃহস্পতিবার দুদুক আবারো অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের পর সরদার আবুল বাসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছি। খাবার সরবরাহে অনিয়মসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার সত্যতা পেয়েছে দুদক।

তিনি বলেন, ‘ডায়েট চার্ট অনুযায়ী আজ এই হাসপাতালে ৮১ জন রোগীর জন্য ২২ কেজি ২০০ গ্রাম মুরগির গোশত সরবরাহ করার কথা, কিন্তু আমরা ওজন দিয়ে ১৫ কেজি ২০০ গ্রাম মাংস পেয়েছি। অর্থাৎ সাত কেজি গোশত কম পাওয়া গেছে।’

দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রত্যেক রোগীকে ৩৫০ গ্রাম করে দু’বেলা ৭০০ গ্রাম দুধ দেয়ার কথা। কিন্তু ওয়ার্ড মাস্টারের সাথে কথা বলে আমরা জেনেছি, এই হাসপাতালে কোনোদিনও রোগীদের দুধ দেয়া হয়নি। সপ্তাহে এক দিন (শুক্রবার) রোগীদের খাসির গোশত দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয় না।’

এছাড়া হাজিরা খাতা অনুযায়ী হাসপাতালে ৩২ জন চিকিৎসক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ১৭ জনকে পেয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারজন চিকিৎসক বদলি হয়ে গেছেন। এছাড়া একজন চিকিৎসক ছুটিতে আছেন। তারপরও ২৭ জন চিকিৎসক উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু আমরা পেয়েছি ১৭ জনকে। ১০ জনই অনুপস্থিত। এ বিষয়ে আমরা লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশনকে অবহিত করব।’