বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিতে পৌরসভা চত্বরে উপজেলা সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে।

শনিবার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো: শাহীন হোসেন।

এ সময় মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমির এম এ বারী, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মানিক, পৌর বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন, মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মো: নূর আলম শেখ, অধ্যক্ষ আবু সাইদ খান, অধ্যক্ষ মো: সেলিম, ব্যবসায়ী নাসির তালুকদার, মো: আনিচুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা মাইনুদ্দিন, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, সাবেক ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম মিঠু, সার্ভিস বাংলাদেশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মেহেদী হাসান শুভ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মোংলা একটি বন্দর, শিল্প ও পর্যটন নগরী এবং উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসনবান্ধব প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। মোংলা উপজেলা হাসপাতালে রামপাল, দাকোপ, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হওয়াতে রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছে না। কাজেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমাদের দাবি মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হোক।

সমাবেশে মোংলা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মো: নূর আলম শেখ বলেন, সরকারকে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আশেপাশের উপজেলার চাপ এবং কর্মসংস্থানের জন্য ছুটে আসা মানুষের ভিড়ে মোংলা শহর এখন জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ। বর্ধিত মানুষসহ সকল জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: শাহীন হোসেন প্রশ্ন রেখে বলেন, ২৮ জন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে আর কতদিন হাসপাতালের কার্যক্রম চলবে? তিনি ৫০ শয্যার মোংলা উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের দাবিকে ন্যায্য দাবি উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। যেকোনো সময় পুরোনো ভবন ভেঙে পড়তে পারে। তাই হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন কার্যক্রম সব সময় চালু রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে গাইনি ও এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ পদায়নের জোর দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়।