টাঙ্গাইলের সখীপুরে এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েও এবং কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্রী জিতেন্দ্র বর্মন নামে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) উপজেলার মহানন্দপুর বাজারে গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে উপজেলার মহানন্দপুর বাজারে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি দোকান নিয়ে সামনের অংশে ফার্মেসির ব্যবসা করছেন শ্রী লোকনাথ বর্মন। আর ওই ঘরের পেছনেই চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখছেন বড় ভাই শ্রী জিতেন্দ্র বর্মন।
অভিযোগ আছে, জিতেন্দ্র বর্মন প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে ছোট ভাইয়ের কাছে পাঠান, আর ছোট ভাই লোকনাথ বর্মন ওই রোগীর কাছে ওষুধ বিক্রি করেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, জিতেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি বা লাইসেন্সধারী কোনো চিকিৎসক না হয়েও নিজের নামে বানানো প্যাডে প্রেসক্রিপশন লেখেন। প্রেসক্রিপশনের জন্য কোনো টাকা না নেয়ায় গ্রামের সহজ-সরল অনেক জটিল-কঠিন রোগীরা তাকে ভালো এবং মানবিক ডাক্তার মনে করে তার কাছ থেকে ওষুধ লিখে নিচ্ছে। ডাক্তার না হয়েও এভাবে চিকিৎসা দেয়ায় যেকোনো সময় ভুল চিকিৎসায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুই ভাই উপজেলার তৈলধারা বাজারে আরো একটি ফার্মেসি করেছেন। সেখানেও সন্ধ্যার পরে নিয়মিত রোগী দেখেন শ্রী জিতেন্দ্র বর্মন। আর মহানন্দপুর বাজারে দেখেন প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘লোকজন তাকে এমবিবিএস ডাক্তার ভাবছে। অথচ তিনি প্রকৃত চিকিৎসক নন। গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষয়টি বুঝতেও পারছে না। মানুষের সাথে প্রতারণা করে ওষুধের ব্যবসা করছেন তারা দুই ভাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রী জিতেন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমি গ্রামের মানুষদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। কাকে কোন ওষুধ দিচ্ছি এটা আমার মনে থাকে না। এ কারণেই মূলত প্রেসক্রিপশনে লিখে দেই। ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এভাবে তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ দিচ্ছেন বলেও স্বীকার করেন। পল্লী চিকিৎসকের সার্টিফিকেট আছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে, ছোট ভাই লোকনাথ বর্মন জিতেন্দ্র বর্মনের পল্লী চিকিৎসকের সার্টিফিকেট নেই বলে জানান। মূলত তার ফার্মাসিস্টের সার্টিফিকেট আছে। ফার্মাসিস্টরা প্রেসক্রিপশন লেখার বৈধতা রাখেন বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, ‘ফার্মাসিস্টের সার্টিফিকেট দিয়ে কেউ প্রেসক্রিপশন লিখতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’