কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখার কাছ থেকে এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার (২৮ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (২৭ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব ইটালুকান্দা এলাকার সীমান্তঘেষা হলহলিয়া নদী থেকে ওই যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

সীমান্তরাসী জানান, আন্তর্জাতিক সীমানা ১০৫৩ মেইন পিলার থেকে দেড়শ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব ইটালুকান্দা এলাকায় স্থানীয়রা গরু নিয়ে মাঠে গেলে সীমান্ত শূন্য রেখার কাছাকাছি হলহলিয়া নদীতে ওই নারীর লাশ দেখতে পায়। পরে বিজিবি ও থানা পুলিশকে খবর দিলে রাতে বিজিবির উপস্থিতিতে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয় রৌমারী থানা পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম, লাল বাদশাসহ অনেকেই বলেন, হলহলিয়া নদীতে এক পরিচয় না জানা সন্দেহভাজন যুবতীর লাশ ভাসতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই লাশ ভারতীয়। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি বাংলাদেশের দেড়শ গজ অভ্যন্তরে নদীতে ফেলে রেখে গেছে। লাশ ভাসতে দেখে দেখতে ছুটে আসে মানুষজন।

তারা জানান, কয়েকদিন আগে শোনা গেছে যে ভারতীয় কয়েকজন নারীকে ধরে এনে আসামের আলগা বিএসএফ ক্যাম্পে রেখে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো চেষ্টা করে বিএসএফ।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ভারতের সীমান্ত থেকে দেড়-দুই শ’ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হলহলিয়া নদীতে এক নারীর লাশ ভাসছে এ রকম সংবাদ আমি শুনতে পারি। পরে স্থানীয় থানা পুলিশ-বিজিবি সংবাদ পেয়ে সীমান্তবর্তী নদী থেকে রাতে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

তিনি আরো বলেন, ওই অজ্ঞাত নারীর লাশের পরনে শুধু ব্লাউজ ছিল। সম্ভবত ভারতীয় নাগরিক হতে পারে। নারীর চেহারা বিভৎস হয়েছে। কোনোভাবেই চেনার উপায় নেই।

রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, লাশটি সম্ভবত ১৫ দিন আগের। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সরকারি মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মোনায়েম খান বলেন, আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার থেকে ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইটালুকান্দা এলাকার হলহলিয়া নদীতে ওই নারীর লাশ ভাসছিল। বিজিবি টহলরত সদস্যরা সেখানে গিয়ে লাশ দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাশাপশি পুলিশ এসে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে। ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।