কুষ্টিয়ায় ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের মালবাহি বগিতে আগুন। অল্পতে আগুন নিভানো সম্ভব হওয়ায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে রেহাই পেল এই ট্রেনের কয়েক হাজার যাত্রী।

আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট ষ্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ডাউন ৭৫৬ মুধমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিলম্বে কুষ্টিয়া কোর্ট ষ্টেশনে পৌঁছানোর পর আকর্ষিকভাবে পেছনের মালবাহি ট্রেনের ব্রেকড বাইন্ডিং থেকে এই আগুনের সুত্রপাত্র হয়। টের পেয়ে সাথে সাথে ট্রেনের কর্মচারীরা ব্রেকবাইন্ডিং ছাড়িয়ে দিলে আগুন দ্রুত নিভে যায়। এ সময় এলাকাবাসী ছুটে এসে পানি দিয়ে সহযোগিতা করলে আগুন নিভানো সম্ভব হয়। এ সময় পুরো এলাকায় ধোঁয়ার আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রেনটি পোড়াদহ ষ্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পোড়াদহ ষ্টেশন থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে রওনা হওয়ার প্রক্কালে ট্রেনের সকল ব্রেক বাইন্ডিংয়ে ক্রুটি ধরা পড়ে। এ সময় সকল বগির এ্যাটেন্ডডেন্টরা নিজ নিজ বগির ব্রেক বাইন্ডিং পরিস্কার করে। কিন্তু শেষের বগিটি মালবাহি হওয়াতে এটেন্ডেন্ট গুরুত্ব না দিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে পরিচালককে জানালে তিনি ৯টা ৩৫ মিনিটে পোড়াদহ থেকে ২০মিনিট বিলম্বে ট্রেন ছাড়ার অনুমতি দেন।

তিনি বলেন, ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট ষ্টেশনে পৌঁছানোর আগ থেকে মালবাহি পিছনের বগিটির ব্রেক বাইন্ডিং শুরু হয়। এ সময় ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট ষ্টেশনে থামা মাত্র পুরো বগির নিচ থেকে সাদা ধোঁয়ার কুন্ডলি বের হতে থাকে। সাথে সাথে ট্রেনের ষ্টাফরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্রেকের ক্রুটিগুলোর সমাধান করে। এ সময় স্থানীয়রা বগির নিচে পানি দিয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর রাজশাহী থেকে উর্ধ্বতন-কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ট্রেনটি কুমারখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রেনের এ্যাটেন্ডন্ট জানান, এই বগিটি ত্রুটিপূর্ণ থাকার পরেও এই গাড়ির সাথে সংযুক্ত করা হয়। আগুন লাগা বগিটির পাশের বগি ছিল এসি বাথ ট্রেনের বগি।

এদিকে খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় তারা ফিরে যায়।