রমজানে নিত্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার মন্তব্য করে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিত্যপণ্যের দাম কমে। আর বাংলাদেশে সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হয়।’
এ সময় রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সেমিনারে উপদেষ্টা হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ইমামদের করনীয়সহ নানা বিষয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মসজিদের খুতবায় জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় তুলে ধরা প্রয়োজন। মানুষের জীবনে কাজে লাগতে পারে এ ধরনের বিষয় খুতবায় প্রাধান্য দিলে জাতি উপকৃত হবে।’
এ সময় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা উন নবীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো: রেজাউল করিম, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো: মুশফেকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক বজলুর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মহিউদ্দিন মজুমদার।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এহসান উদ্দিন, জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, ইমাম, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রণীত প্রাক-খুতবাকে চমৎকার অভিহিত করে ড. খালিদ বলেন, ‘এ খুতবায় জীবনধর্মী ও সমসাময়িক বিষয়গুলো সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ খুতবা অনুসরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্য বিষয় যুক্ত করার জন্য ইমামদেরকে অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, বনায়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ প্রভৃতি বিষয়ে আলেম-ওলামাদেরকে সোচ্চার ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।’
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় হাওর এলাকার ২৫ হাজার ৮৭০ জন ইমাম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাতটি জেলার ৫৭টি উপজেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।