গত মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদফতর। আর এতে অর্থায়ন করছে পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি ও বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জলাবন ও জলজ বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।

প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করাই পরিবেশগত স্থায়িত্বের চাবিকাঠি। টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি আমাদের সবার। স্থানীয় প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বিশ্বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’

এই প্রকল্পে অর্থায়ন করায় গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিইএফের অব্যাহত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ইউএনডিপি জাতীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলিতভাবে জিইএফের সহায়তায় ৩৫০ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা এনেছে, যা বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের এই নতুন প্রকল্প পূর্ববর্তী সাফল্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে এবং সরকার, কমিউনিটি, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’

স্টেফান লিলার আরো বলেন, ‘এই প্রকল্পে স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকি-বিবেচনায় নেয়া সংরক্ষণ পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও স্কেলযোগ্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জ্ঞানের অন্তর্ভুক্তি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘কমিউনিটির সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সমন্বিত জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ অধিদফতর নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্প শুধু প্রকৃতি সংরক্ষণ নয়, এটি জনগণের জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।’

তিনি আরো জানান, প্রকল্পটি সুনামগঞ্জ জেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হবেন, যেখানে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে দেড় হাজার হেক্টরের বেশি বন ও জলজ বাসস্থান পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য অভয়ারণ্য স্থাপন, মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ ও নারী-সংবেদনশীল এমএসএমই-সমূহকে সহায়তা, জলাভূমি-ভিত্তিক কৃষি ও মৎস্য চাষ এবং দায়িত্বশীল পর্যটনকে উৎসাহ দেয়া।

এছাড়া প্রকল্পে জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ, বায়োডাইভারসিটি ফাইন্যান্স এবং জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা এবং গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, ইউএনডিপি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, এনজিও, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১১০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন। সূত্র : ইউএনবি