রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। ভালো সময় যাচ্ছে না কার্লো আনচেলত্তিরও। যেই দলটা নিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য, গড়ছিলেন টানা ইতিহাস; হঠাৎ যেন তাদের নিয়েই দেখছেন মুদ্রার উল্টা পিঠ।
চলতি মৌসুমে দলের অধারাবাহিক পারফরম্যান্সে পায়ের নিচ থেকে ক্রমে মাটি সরে যাচ্ছে এই কিংবদন্তি কোচের। তারকায় সমৃদ্ধ দল নিয়েও ভুগতে হচ্ছে রিয়ালকে। যে কারণে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন আনচেলত্তি।
সবশেষ ম্যাচগুলোও পক্ষে যায়নি তার। লা লিগায় গত ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে যেমন শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে গেছে লস ব্লাঙ্কোজরা, তেমনি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও খেয়েছে হোচট। বিধ্বস্ত হয়েছে আর্সেনালের কাছে।
এমিরেটসে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়ালকে পাত্তাই দেয়নি আর্সেনাল। প্রথম লেগ শেষে এগিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে মিকেল আর্তেতার দল। তাতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা আছে বাদ পড়ার শঙ্কায়।
টানা দুই হারে খাদের কিনারায় এখন আনচেলত্তি। তার চাকরি যেন এখন সুতোয় ঝুলছে। যেকোনো সময় চলে আসতে পারে বড় কোনো সিদ্ধান্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ে গেলেই আনচেলত্তির বিদায় হতে পারে কার্যকর।
তবে শেষ সুযোগ আর ভরসা হিসেবে আনচেলত্তির শক্তির জায়গা কেবল সান্তিয়াগো বার্না ব্যু। ঘরের মাঠে খেলা বলেই ফিরে আসার বিশ্বাসটা রাখছেন তিনি। যেখানে ফিরে আসার কত শত গল্পই তো লিখেছে রিয়াল।
রিয়াল সমর্থকরা বেশ গর্ব করেই বলতে শোনা যায়, বার্নাব্যুর ৯০ মিনিটে যে অনেক লম্বা সময়। যেখানে হতে পারে অনেক কিছুই। বদলে যায় ভাগ্যের গল্প।
আনচেলত্তিও মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাই। তিনি বলেন, ‘বার্নাব্যুতে অনেক কিছুই হতে পারে। এখন মনে হচ্ছে আর কোনো কিছুই সম্ভব না, তবে ফুটবলে যে কোনো কিছুই হতে পারে। আমাদের তাই বিশ্বাসটা রাখতে হবে।’
রিয়াল কোচ অবশ্য একা নয়, তার সাথে তাল মিলিয়েছেন দলটির মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। জানিয়েছেন বার্নাব্যুতে তারা পাল্টাতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য। বলেন, ‘আমাদের পাগলাটে কিছু করে দেখাতে হবে, মনে রাখার মতো একটা ম্যাচ খেলতে হবে। এখনো ৯০ মিনিট বাকি আছে, বার্নাব্যুতে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে।’