এমিরেটস স্টেডিয়ামে হতবিহ্বল রিয়াল মাদ্রিদ। আর্সেনালের কাছে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘রাজাদের।’ স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি লস ব্লাঙ্কোজরা, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তারা।

মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। যেখানে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে বিবর্ণ রিয়ালকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।

আর্সেনাল দারুণ ছন্দে ছিল বটে। মাঠে নামার আগে তবুও কী কেউ ভেবেছিল এমন কিছু হতে পারে! অবিশ্বাস্য কিছুই যেন ঘটলো এমিরেটসে। ডেকলান রাইসের জোড়া ফ্রি কিকে সেমিফাইনাল স্বপ্ন দেখছে গানাররা।

দেড় যুগের বেশি সময় পর সেমিফাইনালের হাতছানি আর্সেনালের সামনে। দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে ২০০৬ সালের পর এই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে আর্সেনাল।

চ্যাম্পিয়নস লিগেও দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেবার রিয়ালকে ১-০ গোলে হারায় গানাররা। আজ ১৯ বছর পর ফের যখন দেখা হলো, তখনো জয়ের ধারা ধরে রাখলো তারা।

প্রথমবারের মতো এবারই এমিরেটস স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে ১৫ বারের ইউরোপ সেরারা শুরুটা খুব একটা খারাপ করেনি। আর্সেনাল শুরু থেকেই আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধে রিয়াল-দূর্গ ভাঙতে পারেনি।

যার বড় কারণ গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। প্রথমার্ধে পিছিয়ে না পড়ার কারণে রিয়াল থিবো কোর্তোয়ার কাছে ঋণী থাকতে পারে। বিরতির ঠিক আগে বেলজিয়ান এই কিপার আর্সেনালের দু’টি প্রচেষ্টা রুখে দেন।

গোলমুখ খোলে ৫৮তম মিনিটে। সরাসরি ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোল করেন ডেকলান রাইস। জোরের সাথে নেয়া বাঁকানো শট জাল নিচু হয়ে জালে জড়ায়। কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি। এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

তবে এখানেই শেষ নয়, মুগ্ধ করেন আরো একবার। ১২ মিনিট পর আরেকটি দর্শনীয় ফ্রি কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এবার রাইসের শট উপরে পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। আর্সেনাল এগিয়ে ২-০ তে।

জোড়া গোলে ইতিহাস গড়েন রাইস। তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে দু’টি গোল করলেন।

এদিকে আর্সেনালের গোল ক্ষুধা তখনো কমেনি। ৭৫তম মিনিটে যোগ হয় আরেকটি গোল। লুইস-স্কেলির বাড়ানো বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মাইকেল মেরিনো। ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

রিয়ালের ক্ষতে নুনের ছিটা লাগে ম্যাচের শেষ দিকে এসে। ৯০+২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এদুয়ার্দু কামাভিঙ্গা। রিয়ালের রাতটা হয়ে উঠে তখন আরো কালো।

এদিন থিবো কর্তো পাঁচটি সেভ না করলে রিয়ালের হারের ব্যবধান আরো বড় হতে পারতো! অন্যদিকে কঠিন কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি আর্সেনাল গোলকিপারকে।

তবে এখানেই শেষ নয়। সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে রিয়ালের। তবে তার জন্য দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে তাদের। দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ এপ্রিল, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।