শিরোপার দৌড় শুরু থেকেই জমে উঠে বেশ। শেষ দিকে এসে নাপোলি বা ইন্টার মিলান, কেউ ছেড়ে কথা বলছিল না মোটেও। সিরি ‘আ’ নিয়ে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলতে থাকে তাদের মাঝে। তবে শেষ পর্যন্ত মিলানকে হতাশায় ডুবিয়ে শেষ হাসি নাপোলির।

জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করলেও ১ পয়েন্টের আক্ষেপে পুড়তে হলো ইন্টার মিলানকে। অন্যদিকে ক্যালিয়ারির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে সিরি ‘আ’ শিরোপা নিজেদের করে নিলো নাপোলি।

গতকাল (শুক্রবার) রাতে দুই দল যখন নিজেদের শেষ লিগ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামে, তখন তাদের পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ১। অর্থাৎ শেষ ম্যাচে এসেও হতে পারতো যেকোনো কিছুই। বদলে যেতে পারতো সমীকরণ।

নাপোলির জন্য শিরোপা সমীকরণ ছিল তুলনামূলক সহজ। শুধু জয় পেলেই হতো তাদের। ইন্টার মিলানকে অবশ্য শুধু জিতলেই হতো না, নাপোলি হারলে বা ড্র করলেই শিরোপা উল্লাস হতো কেবল।

মিলান নিজেদের কাজটা ঠিকই করেছে, কোমোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। তবে নাপোলিও তাদের ম্যাচে জিতে যাওয়ায় খুব কাছে গিয়েও আক্ষেপে পুড়তে হলো ইন্টার মিলানকে। ৩৮ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট নাপোলির, ৮১ পয়েন্ট মিলানের।

এর মধ্য দিয়ে এক মৌসুম পর ফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো নাপোলি। ম্যারাডোনার হাত ধরে দু’বার সিরি ‘আ’ জয়ের পর তৃতীয় শিরোপা জেতার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ৩৩ বছর। তবে চতুর্থ শিরোপা দেখা দিল এক মৌসুম পরেই।

এইদিন প্রথমার্ধের খেলা শেষ হবার তিন মিনিট আগে দলকে লিড এনে দেন ম্যাকটনিমে। মাতেও পলিতানোসের ক্রস ধরে দারুণ এক বাইসাইকেল কিকে জাল খুঁজে নেন স্কটিশ এই মিডফিল্ডার।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেলজিয়ান তারকা রোমেরো লুকাকু। আমির রহমানির লম্বা পাস মাঝমাঠ থেকে দখলে নিয়ে ক্যালিয়ারির গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে জয় তুলে নেয় নাপোলি। প্রতিপক্ষ ক্যালিয়ারি কোনো গোল দিতে পারেনি। তাতেই নিশ্চিত হয় নাপোলির শিরোপা।

নাপোলির শিরোপা জয় নিশ্চিতের পরই গোটা স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উল্লাসে। আলোর ঝলকানিতে উদ্ভাসিত হয় নেপলস শহর। মাঠে উদ্‌যাপন করেছেন খেলোয়াড়েরা আর মাঠের বাইরে সমর্থকেরা মত্ত নেচে-গেয়ে।