বার্সালোনার মাটিতে জয়ের স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২০০৬ সালের পর বার্সার মাঠে আর জেতেনি তারা। অবশেষে গতরাতে ফুরাল দুই দশকের অপেক্ষা।

ন্যু ক্যাম্পে বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ ও অ্যালেকজান্ডার সরলথ।

ম্যাচজুড়ে অবশ্য দাপট দেখায় বার্সাই। ৫৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে মোট ১৮টি শট নেয় তারা। যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি লামিন ইয়ামালরা।

বিপরীতে অল্প সুযোগ পেয়েই কাজে লাগায় সফরকারী দল। তিনটি লক্ষ্য বরাবর শট করে ২ গোল আদায় করে নেয় আতলেতিকো। তাতে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল মাদ্রিদের ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড। প্রথম চার মিনিটেই নেন দু’টি শট। এমনকি ১৮ মিনিটে পেয়ে যান জালের দেখাও। কিন্তু অফ সাইড আইনে বাতিল হয়ে যায় গোলটি।

পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার চেষ্টা করেন রাশফোর্ড। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। ইয়ামালও তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল পাননি।

উল্টা বিপদজনক জায়গায় ৪০তম মিনিটে গুইলানো সিমেওনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে বসে বার্সার পাও কুবারসি। সেই সাথে ফ্রি কিক পেয়ে যায় আতলেতিকো মাদ্রিদ।

ডান পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে ওই ফ্রি কিক থেকে গোল আদায় করে নেন আলভারেজ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার নবম গোল। সেই সাথে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতি যায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ১০ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোর ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। তবে কাজের কাজ হচ্ছিল না, গোলটাই পাচ্ছিল না বার্সা।

উল্টা আরো একবার খেলার ধারার বিপরীতে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশায় ডোবায় দিয়েগো সিমেওনের দল। ম্যাচের ৭০ মিনিটে মাতেও রুগেরির ক্রস বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে সরলথ।

২-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রাখে বার্সা। রাশফোর্ড-ইয়ামালরা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যান। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি।

আগামী মঙ্গলবার রাতে ফিরতি লেগের ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে মুখোমুখি হবে দু’দল। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে ওই ম্যাচে ৩ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে বার্সেলোনার।