বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুরের ম্যাচ মাঠে বসে দেখার আগ্রহ কার না জেগেছে! সেই টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্র। সেই সাথে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার দেশ উগান্ডা থেকেও কেনা হয়েছে ম্যাচের টিকিট।
এই প্রবাসীরা ঈদের ছুটিতে দেশে এসে দেখবেন ১০ জুন হামজা, জামাল, রাকিব, মিতুল মারমাদের ম্যাচ।
১০ জুনের ম্যাচের টিকিট সারাদেশেই বিক্রি হয়েছে। সেই সাথে যুক্তরাস্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও উগান্ডা থেকেও প্রবাসীরা টিকিট কিনেছেন বলে জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালের ছোট ভাই তাজোয়ার আওয়াল। তিনি বাফুফের কম্পিটিশনস কমিটির সদস্য।
তাজোয়ার আওয়াল আরো জানান, কেউ যদি টিকিট কালোবাজারী করে ধরা পড়ে, তাহলে যার নামে এই টিকিট বিক্রি হয়েছে তার নামে মামলা হবে। ম্যাচের স্টেডিয়ামে থাকবে ম্যাজিস্টেটও।
তিনি বলেন, কোনো টিকিটে ঝামেলা হওয়ার পর অবিক্রিত থাকলে সেটিও বিক্রি হবে।
শনিবার (২৪ মে) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর ম্যাচের সব গ্যালারির টিকেট। ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের এই ম্যাচকে নিয়ে যে উন্মাদনা ও প্রবল আগ্রহ জেগেছে সেটাই বলে দিচ্ছিল তা।
কিন্তু অললাইনে টিকিট বিক্রি করার দায়িত্ব পাওয়া টিকিফাই ডট লাইভের ওয়েবসাইটে সাইবার অ্যাটাক হওয়ায় স্থগিত হয়ে যায় টিকিট বিক্রি। তবে শনিবারও কিছু লোক টিকিট কিনতে পেরেছিলেন। এরপর বাফুফে দফায় দফায় ঘোষণা দিয়েও টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারছিল না।
শেষ পর্যন্ত সোমবার (২৬ মে) রাতে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয়। আর আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাজোয়ার আওয়াল জানান, গ্যালারির ১৮ হাজার ৩০০ টিকিটের সবই বিক্রি হয়ে গেছে। সেই সাথে ক্লাব হাউজ-২ এর সব টিকিটও পরশু রাতে বিক্রি হয়ে গেছে। তা ২০ মিনিটের মধ্যেই বিক্রি শেষ। এছাড়া হসপিটালিটি বক্সের সব টিকিটও ফুটবলপ্রেমীদের হাতে। বাফুফে এখন দেখছে এই টিকিট বিক্রিতে কোনো গ্যাপ আছে কিনা।
আজ এবং গতকালও সাইবার অ্যাটাকের চেষ্টা হয়েছিল। এবার তা সফলতার সাথেই মোকাবেলা করেছে বাফুফে। এ জন্য কমিটির অন্যদের সাথে তাজোয়ার আওয়ালও সারারাত জেগে ছিলেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এই টিকিটের এত চাহিদা যে পরশু রাতে ৫ মিনিটে ৩০ হাজার গ্রাহক চেষ্টা করেছিল। যারা আগে টিকিফাই থেকে টিকিট কিনেছেন তারা তা দিয়েই খেলা দেখতে পারবেন।
এই ম্যাচকে ঘিরে ব্যাপক উদ্যোগ বাফুফের। ফ্যান জোন হবে একাধিক। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাজোয়ার জানান, আমাদের প্রধান ইস্যু ছিল টিকিট বিক্রি। তা আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এখন ফ্যান জোন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে কাজ শুরু হবে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বাকি সব কাজ। আগামীকাল থেকে ৪ জুন বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।