বিদায় বেলায় সেরা উপহারটাই পেলেন কার্লো আনচেলত্তি, লুকাস ভাসকেসরা। অনুভূতিটা সুন্দর হয়ে থাকবে লুকা মদরিচের জন্যও। বার্নাব্যুতে নিজেদের শেষ ম্যাচটা জয় দিয়ে রাঙিয়েছেন তারা।

এবারের আসরে লা লিগায় নিজের শেষ ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার ঘরের মাঠে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। দুটি গোলই করেছেন উদীয়মান ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

আগেই জানা গিয়েছিল এই ম্যাচ দিয়েই রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় বলবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও লুকাস ভাসকেস। আর রিয়ালের ঘরের মাঠে নিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা মদরিচ।

ম্যাচ ঘিরে তাই আগ্রহের কমতি ছিল না। সর্বদা উল্লাস মুখর বার্নাব্যু এই দিন ছিল আবেগতাড়িত। একটা অধ্যায়, এক যুগ, একটা ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটছে আজ।

যদিও শিরোপাহীন একটা মৌসুম কেটেছে, তবে স্মরণীয় হয়ে থাকলো শেষ মুহূর্তটা। রাঙিয়ে তুললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। একাই করলেন জোড়া গোল। শুরু থেকেই একের পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া এই ফরাসি তারকা গোলমুখ খুলেন ৩৬ মিনিটে।

সোসিয়েদাদের বক্সে তাদেরই পাবলো মারিনের হাতে বল লাগলে, ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এমবাপ্পের দুর্বল শট সোসিয়াবাদ গোলরক্ষক রুখে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ফিরতি বল জালের জড়ান তিনি।

খেলার ৭৭তম মিনিটে লুকাস ভাসকেসকে তুলে নেন আনচেলত্তি। মুহূর্তটা আবেগময় হয়ে উঠে। ভাসকেস বেরিয়ে যাবার সময় পুরো গ্যালারি উঠে দাঁড়ায়, করতালিতে অভিবাদন জানান তাকে।

এর ছয় মিনিট পরই দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিউসের দুর্দান্ত এক থ্রু পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে কোনাকুনি শটে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি। যা অভিষেক মৌসুমে তার ৩১তম গোল।

এরপর ৮৭তম মিনিটে মদরিচকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোচ। এবার তাকে ঘিরে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের গার্ড অব অনার পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই রিয়াল কিংবদন্তী। শেষ হলো তার ১৩ বছরের বার্নাব্যু ক্যারিয়ার, শেষ হলো রিয়ালের সাথে বর্ণাঢ্য যাত্রা।

এরপর আর গোল না এলেও শেষ হয় ম্যাচ। তবে ম্যাচ শেষ হতেও ফের বিদায়ের বেদনায় ডুবে যায় বার্নাব্যু। এবার থামেন আনচেলত্তি। তাকে ঘিরেও আবেগগণ পরিবেশ তৈরি হয়। রিয়ালের হয়ে আর দেখা যাবে না অন্যতম সেরা এই কোচকে। শেষ করলেন সোনালি অধ্যায়ের বর্ণিল পথচলা।

এরপর কখনো আনচেলত্তি, কখনো ভাসকেস কিংবা কখনো লুকা মদরিচকে উপরে ছুড়ে আবেগে ভেসে উঠে রিয়াল ফুটবলাররা। ভক্ত ও দর্শকদের কড়তালি আর অশ্রুভেজা ভালোবাসায় সিক্ত হন তারা।