সাড়ে ৬০ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম যেন লাল সমুদ্র। চারদিকে লালের রাজত্ব। দর্শকঠাসা অ্যানফিল্ডে যেন বসন্ত নেমে এসেছে। বসন্তই বটে, লিভারপুল যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে নিয়েছে।
লালের এমন উৎসব তো হবারই কথা! লিভারপুলের জন্য যে আজ দিনটি ছিল বিশেষ। ৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় ছাপিয়ে যেই উল্লাস ছিল ভিন্ন এক অপূর্ণতা ঘোচানোর।
২০১৯-২০ মৌসুমে ৩০ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে শেষবার শিরোপা জেতে লিভারপুল। তবে সেই আনন্দে তৃপ্তি আসেনি, উৎসব করা যায়নি করোনার কারণে। জয়ের আন্দন্দ আটকে ছিল মাঠেই, স্টেডিয়াম ছিল দর্শকশূন্য।
পরের চার মৌসুমে টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। এবার তাদের আধিপত্যের ইতি টানল আর্না স্লটের দল।
রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতে টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৫-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে লিভারপুল।
চার ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন হলো লিভারপুল। ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এই নিয়ে মোট ২০ বার চ্যাম্পিয়ন হলো অলরেডরা। স্পর্শ করল আগে থেকে রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।
১ পয়েন্ট পেলেই চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণের ম্যাচে ভুল করেনি লিভারপুল। গোল উৎসব করেই শিরোপা উৎসব রাঙিয়েছে তারা। যদিও শুরুটা ছিল বাজে, ১২ মিনিটেই গোল হজম করে বসে তারা। গোল করেন ডমিনিক সোলাঙ্কি।
পাল্টা জবাব দিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি লিভারপুল। চার মিনিট পরেই ফেরে সমতা। মোহাম্মদ সালাহর থ্রু ধরে দমিনিক সবোসলাই বাড়ান লুইজ দিয়াজের দিকে। যা থেকে তিনি ভুল করেননি গোল করতে।
চার মিনিট পর আরেকবার টটেনহামের জালে বল পাঠিয়েও অফসাইডের কারণে উদ্যাপন করতে পারেননি কোডি গাকপো। তবে ২৪তম মিনিটে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন ম্যাক অ্যালিস্টার।
৩৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে শিরোপার পথে আরো এগিয়ে যায় লিভারপুল। টটেনহাম রক্ষণের ভিড়ের মধ্য থেকে গোল আদায় করে নেন গাকপো। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে লিভারপুল।
৬৩ মিনিটে ট্রেডমার্ক শটে চতুর্থ গোলটি এনে দেন সালাহ। সোবোসলাইয়ের পাস ধরে ডি-বক্সে জায়গা বানিয়ে নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন তিনি। চলতি আসরে গোল হলো এই নিয়ে ২৮টি।
এরপর ডেসটিনি উদোগির আত্মঘাতী গোল ৫-১ বানিয়ে দেয় স্কোরলাইনটাকে। এরপর কেবলই যেন শেষের অপেক্ষা। আর শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উৎসব।