অতীতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং জাতীয় দল নিয়ে নানা আন্দোলন হয়েছে। এবার ফুটবল প্রেমীদের একটি অংশ ফুঁসে উঠেছে কেনো জাতীয় দল থেকে বাদ দেয়া হলো ইতালী প্রবাসী ফুটবলার ফাহামিদুল ইসলামকে। গতকাল এই ফুটবল সমর্থকরা বাংলাদেশ দলের টিম হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যান। সেখানেই তাদের দাবি ফাহামিদুল ইসলামকে জাতীয় দলে ফেরাতে।

একপর্যায়ে তারা দেখা করেন টিম হোটেলে আসা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালের সাথে। তাবিথ অবশ্য তাদের জানিয়ে দেন ভারতের বিপক্ষে ২৫ মার্চের ম্যাচে আর ফাহামিদুলকে জাতীয় দলে ফেরানোর কোনো সুযোগ নেই। এই ফুটবল সমর্থকদের বাফুফে সভাপতি উদাহরণ দেন জামাল ভূঁইয়ার।

তিনি জানান, ‘জামালও প্রথমে বাদ গিয়েছিল। পরে আমি বাফুফের সহ-সভাপতি হওয়ার পর জামাল জাতীয় দলে ডাক পায়। ফাহামিদও পরে আবার জাতীয় দলে ডাক পাবে।’

গতকাল জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনে কোচ হাভিয়ার কাবরেরা জানান, ‘ফাহামিদুলের ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সে এখন ইতালিতে। তার মতে, ফাহামিদুল প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে এখন জাতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত নয়।’

ফুটবল সমর্থকদের অভিযোগ, ফাহামিদুল কোচের সিন্ডিকেটের শিকার। তিনি বর্নবাদেরও শিকার। ফুটবলের চলমান ইস্যু যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পর্যন্ত গড়িয়েছে। গতকাল তিনি মন্ত্রণালয়ে দেখা করেছেন জাতীয় দলের ফুটবলার হামজা চৌধুরীর সাথে। তখন উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালও। তখন ক্রীড়া উপদেষ্টা ফুটবলের চলমান সমস্যা নিয়ে জানতে চান বাফুফে সভাপতির কাছে।

বাফুফে সভাপতি স্পষ্ট করেন, ফুটবলে সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই যার যার জায়গা করে নেবে। তবে এমন কিছুর আভাস মিললে ব্যবস্থা নেবে সরকার।

তাবিথ আরো উল্লেখ করেন, সৃষ্ট সঙ্কট কোনো সঙ্কট নয়। ফাহামিদুলকে আমরা বাদ দেয়নি। ও প্রতিভাবান। ওকে আমরা আরো সময় দিতে চেয়েছি। আগামী জুনেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ম্যাচ আছে। খুব শীঘ্রই হয়তো আমরা তাকে মাঠে দেখতে পারি।

সমর্থকদের এতটুকু বললো, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ওই সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের স্বার্থেই যোগ্য খেলোয়াড়দের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। সিলেকশনে কোনো খেলোয়াড় যাতে সিন্ডিকেটের শিকার না হয় সে বিষয়ে বাফুফেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে দুর্নীতি প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবে সরকার।