‘পৃথিবীর শেষ দেশ’ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হলো মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের। স্বাধীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও এতদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখা যায়নি তাদের। তবে এবার ফুরিয়েছে অপেক্ষা।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জই যে ছিল বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা কখনোই আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেনি। তাদের অভিষেকের মধ্য দিয়ে এখন আর এমন কোনো দেশ বাকি রইল না, যেখানে ফুটবল দল নেই।

পৃথিবীর শেষ দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে গত ১৫ আগস্ট অভিষেক হয় মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের। যদিও শুরুটা স্মরণীয় হয়নি, মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৪–০ গোলে হেরেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংডেল হাইস্কুল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে নামে দেশটা। যেখানে অবশ্য ফলাফলের চেয়ে অংশগ্রহণটাই হয়ে দাঁড়ায় বড় বিষয়।

ম্যাচ শেষে দলীয় ছবি পোস্ট করে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ সকার ফেডারেশন (এমআইএসএফ) লিখেছে, ‘স্কোর যাই হোক না কেন, যা অর্জন করেছি তাতে গর্বিত। আজ রাতে আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’

অবশ্য প্রথমবারের মতো মাঠে নামতেও বেশ কাঠগড় পোহাতে হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, এই দলের সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়ের বয়স ১৫ বছর আর সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড়ের বয়স ৪০ বছর।

ছোট্ট দ্বীপদেশে পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠের অভাব থাকায় অনেক সময় বাস্কেটবল কোর্টে ফুটবল খেলা হয়। আবার দলের খেলোয়াড়রা অভিষেক ম্যাচের আগে পাঁচবার একত্রিত হয়ে অনুশীলন করেছেন মোটে!

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা মাত্র ৪২ হাজার। যা অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বের ২৫০০ মাইল দূরে অবস্থিত ও ২৯টি প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত। তারা ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

অবশ্য দেশটি এখনো ফিফা ও ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের (ওএফসি) সদস্য হয়নি। তবে এমআইএসএফ এখন জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সদস্যপদ পাওয়ার জন্য কাজ করছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ টুর্নামেন্টে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে টার্কস ও কাইকোস দ্বীপপুঞ্জের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে টার্কস ও কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০৬ ও মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ২০৭ নম্বরে আছে।