অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। লক্ষ্য ছিল ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলা। তবে চলতি মাসে সেই সিরিজ আয়োজন না হওয়ায় ছুটিতেই আছেন ক্রিকেটাররা। যদিও ছুটি দীর্ঘ হচ্ছে না।
কয়েক দিনের বিশ্রাম শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জাতীয় দল ও নির্বাচকদের নজরে থাকা ক্রিকেটারদের ক্যাম্প। সামনে ব্যস্ত সূচি থাকায় এই ক্যাম্পকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজটি না হওয়ায় অনুশীলনের জন্য বাড়তি সময় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সময় কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও স্কিলের ঘাটতি পূরণে মনোযোগ দেয়া হবে। ক্যাম্পের শুরুতে ফিটনেস অনুশীলন, এরপর হবে স্কিল ক্যাম্প।
দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা বা দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রস্তুতি দেখানোরও সুযোগ হবে এই ক্যাম্পে। জাতীয় দলের পাশাপাশি নির্বাচকদের রাডারে থাকা ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি থাকায় ভবিষ্যৎ দল গঠনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
বিদেশী কোচরা ছুটিতে থাকায় ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন দেশী কোচরা। ক্রিকেটারদের ফিটনেসের পাশাপাশি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের দক্ষতা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন তারা। একইসাথে সামনে থাকা সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা আরো গোছানোর সুযোগ মিলবে টিম ম্যানেজমেন্টের।
অক্টোবরের শুরুতেই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত হয়ে পড়বে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের।
ত্রিদেশীয় সিরিজটি চূড়ান্ত হলেও ম্যাচগুলোর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। জানা গেছে আফগানিস্তানের প্রস্তাবে শুরুতে সাড়া না দিলেও পরে সিরিজে খেলতে রাজি হয়েছে জিম্বাবুয়ে। তিন দলের ওয়ানডে সিরিজের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ।
ফলে ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া মিরপুরের ক্যাম্পটি শুধু নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এই সফরের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও দক্ষতা যাচাই, সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের পরখ ও জাতীয় দলের প্রস্তুতিকে আরো শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে এই ক্যাম্প।
ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতে ফেরার আগে এটিই হবে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।