দীর্ঘ দেড়যুগের অপেক্ষা শেষে এবার আইপিএল শিরোপা নিজের করে নেন বিরাট কোহলি। তবে শিরোপা জিতেও স্বস্তিতে নেই তিনি। বেঙ্গালুরু ট্রাজেডি ভীষণ চাপে রেখেছে তাকে। এর মাঝেই ফের বড় ধাক্কা খেলেন কোহলি।
আশঙ্কা অবশ্য আগেই ছিল। এবার বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হল অভিযোগ। বেঙ্গালুরুতে দলের বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
গত ৩ মে আহমেদাবাদে পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতে রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুর। তবে তার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই সেই আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে। নেমে আসে শোকের ছায়া।
আহমেদাবাদে উল্লাস করে মন ভরেনি কোহলিদের, তাই পরদিনই নিজেদের মাঠ এম চেন্নাস্বামীতে শিরোপা নিয়ে হাজির হয় চ্যাম্পিয়ন দলটা। আর তখনই ঘটে মার্মান্তিক এই ঘটনা। বেঙ্গালুরুর উৎসবের মঞ্চ হয়ে উঠলো শোকের ক্যাম্পাস।
শুধু খেলোয়াড়দের একটিবার দেখার আশায়, ট্রফিটিকে ছুঁয়ে দেখার বাসনায় চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের দিকে ধেয়ে এসেছিল অসংখ্য সমর্থকেরা। কিন্তু সেই ভিড়ে হঠাৎ শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আর তাতেই ঘটতে থাকে জীবন অবসান।
জানা যায়, পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন, আহতের সংখ্যা অর্ধশতকেরও বেশি। তাতেই যেব বদলে যায় পরিস্থিতি। বেঙ্গালুরুর ‘উই আর চ্যাম্পিয়ন' স্লোগান মুছে যায় কান্নায়, চাপা আর্তনাদে আর থমকে যাওয়া জীবনসংখ্যায়।
এদিকে এই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় গোটা ভারতকে। কড়া অ্যাকশনে যায় প্রশাসন। ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট ও কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসসিএ) বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
সুবাদে ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের সিনিয়র ইভেন্ট ম্যানেজার কিরণ কুমার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সুনীল ম্যাথিউকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার পুলিশ আরসিবির বিপণন ও রাজস্ব বিভাগের প্রধান নিখিল সোসালেকেও গ্রেপ্তার করে।
তবে গ্রেফতারের আশঙ্কা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কর্নাটক ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ইতোমধ্যেই বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার কররেছেন।
এই যখন অবস্থা, তখন শিরোপাজয়ী দলটির সবচেয়ে বড় মুখ বিরাট কোহলির বিরুদ্ধেও দায়ের হলো মামলা। স্থানীয় সমাজকর্মী এইচএম বেঙ্কটেশ কাবন পার্ক থানায় এই মামলা করেন।
ভেঙ্কটেশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘বেঙ্গালুরু দলের হয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে লোক জড়ো হতে উসকানি দিয়ে এ দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম বিরাট কোহলি। দয়া করে কোহলি ও তার দলের সদস্যদের এই দুর্ঘটনার এফআইআরে অভিযুক্ত করুন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
তবে কোহলির বিরুদ্ধে অভিযোগ গৃহীত হলেও নতুন কোনো এফআইআর নথিভুক্ত হবে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এরই মধ্যে দায়ের করা একটি মামলার অধীন চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি।’