আমতলী উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত ১৫ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ১৫ শিশু এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। কিন্তু হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সংঙ্কট রয়েছে। সঙ্কট থাকায় বাহির থেকে স্বজনদের অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবি শিশুর স্বজনদের।
জানা গেছে, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও আমতলী উপজেলায় ছিল ভিন্ন চিত্র। জুন মাস পর্যন্ত তেমন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। কিন্তু সেই চিত্র জুলাই মাসে ভেঙ্গে গেছে। গত ১৩ দিনে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে এখনো ১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে।
এদিকে শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর জানান, হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সঙ্কট থাকায় শিশুদের সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ফলে স্বজনদের বাহির থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতাল অ্যান্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবি হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের।
অন্যদিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা ইউনিটে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই ইউনিটে বেড না থাকায় ফ্লোরে বিছানা পেতে শিশু ও শিশুর স্বজনদের থাকতে হচ্ছে। এতেও তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের আলাদা ফ্লোরে হাতে আক্রান্ত শিশু ও শিশুর স্বজনরা বিছানা পেতে থাকছেন। এ ইউনিটে আলাদা কোনো বেড নেই।
শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর বলেন, হাসপাতাল থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন দিচ্ছে না। এগুলো বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে অ্যান্টিবায়েটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহের দাবি তাদের।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, হতদরিদ্র শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: চিন্ময় হাওলাদার বলেন, নতুন অর্থ বছরের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে সেই সঙ্কট কেটে যাবে।