শুভমান গিল ইতিহাস গড়লেন, এজবাস্টন জিতলো ভারত। ফুরালো ৫৮ বছরের অপেক্ষা! এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বার্মিংহামের এই মাঠে জয় পেলো ভারত।

তবে নিছকই কোনো জয় নয়, ঘরের মাঠে ইংলিশদের হারিয়েছে দাপটের সাথে। একের পর এক রেকর্ড আর কীর্তি গড়ে ভারত তুলে নিয়েছে ৩৩৬ রানের জয়। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শুভমান গিল।

ভারতীয় ক্রিকেটে এক দুঃস্বপ্নের নাম ছিল এজবাস্টন। এই মাঠে আগে কখনোই টেস্ট জেতেনি টিম ইন্ডিয়া। মনসুর আলী খান, কপিল দেব, আজহারউদ্দিন, ধোনি-কোহলিরা পারেননি এখানে ভারতকে জেতাতে। তারা যা পারেননি, তা করে দেখালেন গিল-রাহুলরা। অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে এনে দিয়েছেন সেই আরাধ্য জয়টা। আগের আট ম্যাচে সাতবারই হেরেছিল ভারত।

প্রতিশোধ দারুণভাবেই নিলো ভারত, ৩৩৬ রানের এই জয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রানের হিসেবে দলটার সবচেয়ে বড় জয়। দেশের বাইরে যেকোনো দলের বিপক্ষেও যা সবচেয়ে বড় জয়।

শেষ দিনে জয়ের জন্য ৫৩৬ রান করতে হতো ইংল্যান্ডকে, হাতে ছিল ৭ উইকেট। এমন সমীকরণ মেলানো ছিল প্রায় অসম্ভবই। এজবাস্টনে ড্র করার কাজটাও যে সহজ ছিল না স্বাগতিকদের জন্য।

আর মাত্র একটা সেশন টিকে থাকলেই হতো, তাহলেই অন্তত ঘরের মাঠে হার এড়াতে পারতো ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি। ৬০৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২৭১ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা।

জয়ের চিত্রনাট্য রোববারেই সাজিয়ে ফেলেছিল ভারত। শেষ দিনে ভারতের জয়ের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারতো কেবল বৃষ্টি। হলোও তাই, সকালে খেলা মাঠেই গড়াতে দেয়নি বৃষ্টি।

যে কারণে দিনের খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর। তাতে কী, আগের দিনই জোড়া উইকেট পাওয়া আকাশ দ্বীপ আজ সকালেও হানেন জোড়া আঘাত।

আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ওলে পোপ ও হ্যারি ব্রুককে দ্রুতই ফেরান তিনি। পোপ ৫০ বলে ২৪ ও ব্রুক করেন ৩১ বলে ২৩ রান। ৮৩ রানেই ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এরপর কেবল জয়ের অপেক্ষা।

সেই অপেক্ষা দীর্ঘ করেন বেন স্টোকস, জেমি স্মিথ ও ব্রেন্ডন কার্সরা। প্রথমে সকালের ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন স্টোকস ও স্মিথ। তারা দু’জনে মিলে প্রথম সেশনটা ভালোভাবেই পার করছিলেন।

মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগেই অবশ্য তাদের জুটি ভাঙেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ে ৭৩ বলে ৩৩ রান করে ফিরতে হয় স্টোকসকে। এরপর ক্রিস ওকসও ফেরেন দ্রুত (৭)।

বাকি সময়টায় চলে স্মিথের একার লড়াই। তুলে নেন ফিফটি, ছুটতে থাকেন শতকের দিকে। তবে তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সেই আকাশ দ্বীপ। ৯৯ বলে ৮৮ করে আউট হন তিনি।

এরপর ইংল্যান্ডের শেষ উইকেট হিসেবে ব্রেন্ডন কার্সকেও ফেরান আকাশ দ্বীপ। কার্স ফেরেন ৪৮ বলে ৩৮ করে। আকাশ প্রথমবারের মতো পান ৫ উইকেটের দেখা। সব মিলিয়ে নেন একাই ৬ উইকেট।

এর আগে, প্রথম ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন আকাশ। সব মিলিয়ে ১০ উইকেট শিকার তার। ইংল্যান্ডের মাঠে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেয়া ভারতের দ্বিতীয় বোলার তিনি। প্রথমজন চেতন শার্মা (১৯৮৮)।

তবে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৩০ রান করা ভারত অধিনায়ক গিলের হাতে ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার। প্রথম ইনিংসে ২৫৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি করেন ১৬১ রান।

এক টেস্টে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এর চেয়ে বেশি রান আছে কেবল গ্রাহাম গুচের, ৪৫৬। তবে ভারতের হয়ে গিলই সেরা, ভেঙেছেন সুনীল গাভাস্কারের ৩৪৪ রানের রেকর্ড। তাছাড়া বিদেশের মাটিতেও যা সবার সেরা।

গিলের এমন দাপুটে ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রান তোলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে ৬ উইকেটে ৪২৭ রান। দুই ইনিংস মিলে ভারতের সংগ্রহ ১০১৪ রান। যা ভারতের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে একই টেস্টে এক হাজার রান ও ২০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লো। এর আগে দুইবার এই কীর্তি ছিল অজিদের (১৯৩৮ এ ১৯৬৯ সালে)

এই জয়ে শুভমান গড়েছেন ইতিহাস, মাত্র ২৫ বছর ৩০১ দিন বয়সে ইংল্যান্ডকে তাদের মাটিতেই হারিয়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এর চেয়ে কম বয়সে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের বাইরে দলকে জেতাতে পারেননি আর কোনো ভারতীয়।