বাংলাদেশের পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থী আজারবাইজানের বাকু শহরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে যাচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়ে হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত এই পাঁচ শিক্ষার্থী আগামী ২০ জুলাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে রওনা হবেন।

বুধবার (১৬ জুলাই) এ লক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পরিচিতি তুলে ধরেছে।

তারা জানিয়েছে, স্বর্ণপদক জয়ের আশায় এবার তারা এগিয়ে যাচ্ছে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করবে পাঁচ সদস্যের একটি দল।

এই দলের সদস্যরা হলেন ফাবিহা মুস্তাকিমা নিহা (মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল), আফফান চৌধুরী (একাডেমিয়া স্কুল), প্রান্ত ঘোষ, শাওহারদো স্বপন সিংঘা ও সুহা আহসান- তিনজনই মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী।

তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি আল আমিন পারভেজ, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো: মানসুরুল হক, যোগাযোগ প্রধান মো: আল-আমিন রাকিব, জুরি বোর্ডের প্রধান সাফায়েদুজ্জামান খান ও সদস্য মো: নাঈম দেওয়ান।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের যাত্রা শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ করে। এর লক্ষ্য অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা ও ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ দক্ষতা গড়ে তোলা।

প্রতিযোগিতাটি বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রাথমিক অনলাইন রাউন্ডে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর বিভাগীয় রাউন্ড ও জাতীয় ক্যাম্প, যেখানে শীর্ষ ৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এক সপ্তাহব্যাপী ইনটেন্সিভ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এখান থেকেই বাছাই করা হয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য পাঁছ সদস্যের দল।

২০২০ সালে বাংলাদেশ দল চারটি একক ও একটি দলগত ব্রোঞ্জ পদক জেতে। এরপর প্রতিবছরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সাফল্য ধরে রেখেছে। ২০১৯ সালে অংশ নেয়া ২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫তম স্থান অর্জন করে।

এবারের ২০২৫ সালের আসরে বিজয়ীদের মাঝে ওয়ালটন স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করবে। অতীত বছরগুলোতে সিটি ব্যাংক টাইটেল স্পন্সর এবং ঢাকা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক সহযোগী স্পন্সর হিসেবে থাকছে।

জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরামর্শক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিডিইও শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি জাতীয় আন্দোলন, যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আল আমিন পারভেজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের দলের কয়েকজন স্বর্ণপদক জিতবে বলেই বিশ্বাস করি, যা দেশের জন্য প্রথম হবে।’

ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো: মানসুরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই পাঁচজনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। প্রতিযোগিতাটি আরো অঞ্চলভিত্তিকভাবে সম্প্রসারণ করা। ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ২৫ লাখ শিক্ষার্থীকে অর্থনীতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এই অলিম্পিয়াড শুধু একটি মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ দক্ষতা বিকাশের একটি জাতীয় উদ্যোগ।