যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার নতুন অভিযান শুরু করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আরো তীব্রতর হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হাউছিদের শক্তি হ্রাস করা এবং তাদের প্রধান সমর্থক ইরানের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা।

হাউছি বিদ্রোহীরা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে দু’টি জাহাজ ডুবে গেছে এবং চারজন নাবিক নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীদের দাবি, তারা গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপ তাদের আরব বিশ্বে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, হাউছিদের ‘জলদস্যুতা, সহিংসতা এবং উগ্রবাদের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে হাউছি হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে সৃষ্ট বিঘ্নের কথাও উল্লেখ করেছেন। তার প্রশাসন এই হামলা বন্ধ করতে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর আগে, বাইডেন প্রশাসনও ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের সাথে মিলে হাউছিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সময় পর্যন্ত হাউছিদের বিরুদ্ধে ২৬০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছিল। তবে বাইডেন প্রশাসন মূলত বেসামরিক হতাহত এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করছিল। ট্রাম্প প্রশাসন তুলনামূলকভাবে আরো আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হাউছিদের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

ইসরাইলও হাউছি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হামলা শুরু করেছে, বিশেষ করে বন্দর শহর হোদেইদায়। হাউছিরা এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হাউছিরা আরো বিস্তৃত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন মার্কিন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সরাসরি সঙ্ঘাত এড়ানোর চেষ্টা করলেও তাদের তেল স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। হাউছিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপে ফেলতে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করতে পারে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হাউছিদের অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে দাবি করা হলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপনে বিদ্রোহীদের সহায়তা করে যাচ্ছে। হাউছিরা এখন ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর অন্যতম শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড হাউছিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিলেও দেশটি সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়িত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের হামলা ইরানকে বার্তা দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য চাপ দেবে। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান বর্তমানে এই প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চিঠির প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের চেষ্টা করছে। সামগ্রিকভাবে, নতুন মার্কিন অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সঙ্ঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার এবং নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র : এপি